ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডে মূল্যস্ফীতি কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ডকে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে না, বরং তা নিয়ন্ত্রণে আসবে। এতে স্থানীয় শিল্পায়ন উৎসাহিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকারি দল এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতেই এই আলোচনা হয়।

সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত তাঁর সম্পূরক প্রশ্নে উল্লেখ করেন যে, ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আনুষঙ্গিক খরচসহ মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া, ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষক কার্ড দেওয়া হবে, যার জন্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। তিনি জানতে চান, এই বিশাল পরিমাণ অর্থ দেশের অর্থনীতিকে কতটা স্বনির্ভর করবে এবং এই অর্থ কি বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে নেওয়া হচ্ছে, নাকি নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ঘটার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা।

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি অত্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ এবং সরকার পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে এর আওতায় আনবে। তিনি স্বীকার করেন যে, পৃথিবীর কোনো সরকারের পক্ষেই একবারে এত বড় পরিসরে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাই, তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ করা হবে এবং প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে বাজেট তৈরি করে কার্ড দেওয়ার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এই কারণে বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার তেমন কোনো কারণ নেই বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অধীনে প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ একত্রিত করলে তা ফ্যামিলি কার্ডের অধীনে প্রদত্ত অর্থের সমান হবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, কিছু সুবিধা একই ব্যক্তি একাধিকবার পাচ্ছেন, যা গবেষণা করে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পুনরাবৃত্তিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে সমন্বয় করা হবে, তবে সমস্ত সুবিধা বন্ধ করা হবে না। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি দাবি করেন যে, এসব সুবিধার কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার টাকা ছাপিয়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াবে না, বরং এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীরা প্রায়শই তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, যেমন পোশাক বা শিশুদের জন্য বই কেনার কথা উল্লেখ করেন। তারা সাধারণত ব্র্যান্ডেড পণ্যের পরিবর্তে দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনেন, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্বাচল ডিএমপির অধীনে, নতুন উপশহরে আসছে সুবিশাল পুলিশি কাঠামো: আইজিপি

ফ্যামিলি কার্ডে মূল্যস্ফীতি কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৪১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডকে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে না, বরং তা নিয়ন্ত্রণে আসবে। এতে স্থানীয় শিল্পায়ন উৎসাহিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকারি দল এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতেই এই আলোচনা হয়।

সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত তাঁর সম্পূরক প্রশ্নে উল্লেখ করেন যে, ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আনুষঙ্গিক খরচসহ মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া, ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষক কার্ড দেওয়া হবে, যার জন্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। তিনি জানতে চান, এই বিশাল পরিমাণ অর্থ দেশের অর্থনীতিকে কতটা স্বনির্ভর করবে এবং এই অর্থ কি বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে নেওয়া হচ্ছে, নাকি নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ঘটার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা।

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি অত্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ এবং সরকার পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে এর আওতায় আনবে। তিনি স্বীকার করেন যে, পৃথিবীর কোনো সরকারের পক্ষেই একবারে এত বড় পরিসরে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাই, তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ করা হবে এবং প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে বাজেট তৈরি করে কার্ড দেওয়ার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এই কারণে বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার তেমন কোনো কারণ নেই বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অধীনে প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ একত্রিত করলে তা ফ্যামিলি কার্ডের অধীনে প্রদত্ত অর্থের সমান হবে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, কিছু সুবিধা একই ব্যক্তি একাধিকবার পাচ্ছেন, যা গবেষণা করে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পুনরাবৃত্তিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে সমন্বয় করা হবে, তবে সমস্ত সুবিধা বন্ধ করা হবে না। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি দাবি করেন যে, এসব সুবিধার কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার টাকা ছাপিয়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াবে না, বরং এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীরা প্রায়শই তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, যেমন পোশাক বা শিশুদের জন্য বই কেনার কথা উল্লেখ করেন। তারা সাধারণত ব্র্যান্ডেড পণ্যের পরিবর্তে দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনেন, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।