ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের অবনতি: রাজপথ থেকে সংসদ, সর্বত্রই পাল্টাপাল্টি লড়াই

সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মাথায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আকস্মিক অস্থির হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে শুরু হওয়া বাকযুদ্ধ এখন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় আসা’র দায়ে অভিযুক্ত করার পর সম্পর্কের ফাটল স্পষ্ট হয়।

এর প্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতকে ‘রাজনৈতিকভাবে নির্মূল’ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন। পাল্টা জবাবে জামায়াত একে অসাংবিধানিক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছে। গত ২৭ এপ্রিল যশোরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, জনগণের শান্তি নষ্ট করে আর ১৭৩ দিন হরতাল করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দলের দূরত্ব এখন সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে।

রাজপথের এই উত্তাপ এখন জাতীয় সংসদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দৃশ্যমান। গত ২৮ এপ্রিল সংসদে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে চরম হট্টগোল সৃষ্টি হয়, যা সংসদ কার্যক্রমকে ১০ মিনিটের জন্য অচল করে দেয়। সংসদের বাইরে তৃণমূল পর্যায়েও পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে উঠেছে।

নেত্রকোনায় জামায়াত নেতার ওপর হামলা, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যুবদল কর্মীর গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং কুড়িগ্রামে জামায়াত কার্যালয়ে হামলার মতো ঘটনাগুলো দুই দলের কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সাক্ষ্য দিচ্ছে। বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এই দূরত্ব হুট করে তৈরি হয় না এবং সরকার বর্তমানে বিরোধী দলকে চাপে রাখার যে পুরনো সংস্কৃতি, সেই পথেই হাঁটছে।

বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এখন ভিন্ন ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে ‘নির্মূলের রাজনীতি’ বুমেরাং হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান দাবি করেছেন, তারা সহনশীল থাকলেও বিরোধী দলই পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে।

যদিও উভয় দলই মুখে ঐক্যের কথা বলছে, তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। জামায়াতকে কোনোভাবেই ছাড় না দেওয়ার এই প্রবণতা এবং বিএনপির ‘নির্মূল’ বার্তা আগামী দিনের রাজনীতিকে আরও বেশি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের অবনতি: রাজপথ থেকে সংসদ, সর্বত্রই পাল্টাপাল্টি লড়াই

আপডেট সময় : ০১:৩১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মাথায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আকস্মিক অস্থির হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে শুরু হওয়া বাকযুদ্ধ এখন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় আসা’র দায়ে অভিযুক্ত করার পর সম্পর্কের ফাটল স্পষ্ট হয়।

এর প্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতকে ‘রাজনৈতিকভাবে নির্মূল’ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন। পাল্টা জবাবে জামায়াত একে অসাংবিধানিক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছে। গত ২৭ এপ্রিল যশোরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, জনগণের শান্তি নষ্ট করে আর ১৭৩ দিন হরতাল করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দলের দূরত্ব এখন সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে।

রাজপথের এই উত্তাপ এখন জাতীয় সংসদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও দৃশ্যমান। গত ২৮ এপ্রিল সংসদে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে চরম হট্টগোল সৃষ্টি হয়, যা সংসদ কার্যক্রমকে ১০ মিনিটের জন্য অচল করে দেয়। সংসদের বাইরে তৃণমূল পর্যায়েও পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে উঠেছে।

নেত্রকোনায় জামায়াত নেতার ওপর হামলা, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যুবদল কর্মীর গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং কুড়িগ্রামে জামায়াত কার্যালয়ে হামলার মতো ঘটনাগুলো দুই দলের কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সাক্ষ্য দিচ্ছে। বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এই দূরত্ব হুট করে তৈরি হয় না এবং সরকার বর্তমানে বিরোধী দলকে চাপে রাখার যে পুরনো সংস্কৃতি, সেই পথেই হাঁটছে।

বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এখন ভিন্ন ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে ‘নির্মূলের রাজনীতি’ বুমেরাং হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান দাবি করেছেন, তারা সহনশীল থাকলেও বিরোধী দলই পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে।

যদিও উভয় দলই মুখে ঐক্যের কথা বলছে, তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। জামায়াতকে কোনোভাবেই ছাড় না দেওয়ার এই প্রবণতা এবং বিএনপির ‘নির্মূল’ বার্তা আগামী দিনের রাজনীতিকে আরও বেশি অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।