বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন ঘিরে দলটির অভ্যন্তরে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রচলিত কাউন্সিল বা সিলেকশন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, নাকি একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে মেধাবী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হবে—তা নিয়ে নীতিনির্ধারকরা দ্বিধায় রয়েছেন। দলের একটি বড় অংশ মনে করছে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এবং ‘সিন্ডিকেট’ প্রভাব মুক্ত করতে একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়ন কমিশন গঠন করা জরুরি।
তাদের মতে, বিগত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের পরাজয় এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ বিশ্লেষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা ছাড়া শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, আরেকটি পক্ষ মনে করছে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং কমিশনের ধারণাটি সংগঠনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক।
বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই মাস আগে শেষ হয়েছে এবং অধিকাংশ জেলা কমিটি ৫ থেকে ৮ বছরের পুরনো হয়ে স্থবির হয়ে পড়ে আছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির মেয়াদও ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে, আর যুবদলের আংশিক কমিটি গঠিত হলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।
এই অবস্থায় পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে। ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানসহ অনেক নেতা মনে করছেন, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল রাজপথের আন্দোলন নয়, বরং তাত্ত্বিক ও সৃজনশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম।
তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ সিনিয়র নেতাদের একাংশ কমিশনের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে বিদ্যমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই কমিটি করার পক্ষপাতি। ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের কাঠামো নিয়ে সমালোচনা এবং যুবদলের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন নেতৃত্বের তৎপরতা দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে আরও সরগরম করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























