বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রকাশ করা হবে। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই প্রতিবেদন পেশ করবেন, যেখানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৯টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হবে।
২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে ইইউ মিশনটি বাংলাদেশে অবস্থান করছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪টি জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। ইইউ এর পক্ষ থেকে এবারের নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের মূল দিক ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ
এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে মিশনটি ২০২৬ সালের সংসদ নির্বাচনকে ‘বিশ্বাসযোগ্য ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত’ বলে উল্লেখ করেছিল। প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবসের মতে:
- নির্বাচনটি প্রকৃত অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল এবং এতে মৌলিক স্বাধীনতাগুলো সংরক্ষিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের নির্বাচনি আইনি কাঠামো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
- নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, যা জনমনে আস্থা ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ-ইইউ নতুন সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানিয়েছেন যে, এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে নতুন অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান পর্যবেক্ষকের সফরের পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ ও ইইউ-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরামর্শ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া ইইউ রাষ্ট্রদূত মানবাধিকার ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং তাঁর সফরের অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে ট্রেনে শ্রীমঙ্গল ভ্রমণের কথা রয়েছে। ইইউ মিশনের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং ১৯টি সুপারিশ আগামী দিনের নির্বাচনি সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টারের নাম 





















