আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, নিপীড়িত ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি সমাজের মিথ্যা মামলা দায়েরের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসারও আহ্বান জানান।
সোমবার (আজ) রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তি এরশাদ মাঠে ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইন মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের উদ্যোগে জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এই ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় গরিব ও অসহায় মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ভুক্তভোগীরা হটলাইন নম্বর ১৬৬৯৯-এ কল করে আইনি সহায়তা পেতে পারেন। মানুষের কাছে আইনি সহায়তা আরও সহজলভ্য করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নয়টি স্থানে পর্যায়ক্রমে এই ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড ক্যাম্প পরিচালিত হবে। আইনমন্ত্রী জানান, কেউ অবিচারের শিকার হয়ে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারলে এই হটলাইন নম্বরে কল দিয়ে সহায়তা চাইলে তা পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা চাই, যেখানে কড়াইল বস্তির মানুষ থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রীও যেন সুবিচার পান। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কাউকে ক্ষমতাধর ব্যক্তি মনে করার প্রয়োজন নেই; কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’ তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্যাতিত ব্যক্তি এবং জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদেরও বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা জানান।
লিগ্যাল এইড সেবা থেকে কেউ বঞ্চিত হলে আইন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতে যাওয়ার আগে কোনো সমস্যার সমাধানে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করার চেষ্টা করা উচিত। যারা পারিবারিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন কিন্তু আদালতে যেতে পারছেন না, তারাও লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মামলাজট কমাতে চাই। তাই লিগ্যাল এইড কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবার কেউ মামলার মাঝামাঝিতে সমঝোতা করতে চাইলে তারও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’
রিপোর্টারের নাম 





















