ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বজ্রপাতে সিলেটেই সর্বাধিক প্রাণহানি, এক দশকে মৃত্যু সাড়ে তিন হাজার

বাংলাদেশে গত এক দশকে বজ্রপাতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। প্রায় এক দশক আগে এটিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও প্রাণহানি থামানো যায়নি। প্রতি বছরই দেশে শতাধিক মানুষ বজ্রপাতের শিকার হয়ে মারা যাচ্ছেন।

সাধারণত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে বাংলাদেশে বজ্রঝড় ও বজ্রপাত বেশি হয়। তবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল সিলেটে এই দুর্যোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বজ্রপাতে সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনাও সিলেটেই ঘটে। সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল দেশের কয়েকটি জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাতে মোট তিন হাজার ৬৫৮ জন মারা গেছেন। এই সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে; একসময় প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ২০১৫ সালে ২২৬ জন মারা গেলেও ২০১৬ সালে তা বেড়ে ৩৯১ জনে দাঁড়ায়। ২০১৭ সালে কিছুটা কমে ৩৮৮ জন হলেও ২০১৮ সালে আরও কমে ৩৫৯ জন হয়। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ৪০১ জনে দাঁড়ায় এবং ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৪২৭ জনে পৌঁছায়, যা এই সময়কালে বজ্রপাতজনিত মৃত্যু বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

তবে ২০২১ সাল থেকে বজ্রপাতে মৃত্যু হ্রাসের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ওই বছর ৩৬৩ জন, ২০২২ সালে ৩৩৭ জন এবং ২০২৩ সালে ৩২২ জন মারা যান। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা আরও কমে ২৭১ জনে নেমে এসেছে এবং ২০২৫ সালে তা ১৭৩ জনে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, চলতি বছরও এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮ থেকে ৩০ জন মানুষ বজ্রপাতে মারা গেছেন। সামগ্রিকভাবে, ২০২০ সালের পর থেকে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে, যার পেছনে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগাম সতর্কতা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারীতে বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক: তিন মাসে আক্রান্ত ৭৪ জন

বজ্রপাতে সিলেটেই সর্বাধিক প্রাণহানি, এক দশকে মৃত্যু সাড়ে তিন হাজার

আপডেট সময় : ০৩:১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে গত এক দশকে বজ্রপাতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। প্রায় এক দশক আগে এটিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও প্রাণহানি থামানো যায়নি। প্রতি বছরই দেশে শতাধিক মানুষ বজ্রপাতের শিকার হয়ে মারা যাচ্ছেন।

সাধারণত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে বাংলাদেশে বজ্রঝড় ও বজ্রপাত বেশি হয়। তবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল সিলেটে এই দুর্যোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বজ্রপাতে সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনাও সিলেটেই ঘটে। সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল দেশের কয়েকটি জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাতে মোট তিন হাজার ৬৫৮ জন মারা গেছেন। এই সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে; একসময় প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ২০১৫ সালে ২২৬ জন মারা গেলেও ২০১৬ সালে তা বেড়ে ৩৯১ জনে দাঁড়ায়। ২০১৭ সালে কিছুটা কমে ৩৮৮ জন হলেও ২০১৮ সালে আরও কমে ৩৫৯ জন হয়। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ৪০১ জনে দাঁড়ায় এবং ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৪২৭ জনে পৌঁছায়, যা এই সময়কালে বজ্রপাতজনিত মৃত্যু বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

তবে ২০২১ সাল থেকে বজ্রপাতে মৃত্যু হ্রাসের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ওই বছর ৩৬৩ জন, ২০২২ সালে ৩৩৭ জন এবং ২০২৩ সালে ৩২২ জন মারা যান। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা আরও কমে ২৭১ জনে নেমে এসেছে এবং ২০২৫ সালে তা ১৭৩ জনে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, চলতি বছরও এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮ থেকে ৩০ জন মানুষ বজ্রপাতে মারা গেছেন। সামগ্রিকভাবে, ২০২০ সালের পর থেকে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে, যার পেছনে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগাম সতর্কতা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।