দেশে গত কয়েক বছর বড় ধরনের কোনো জঙ্গি হামলা না ঘটলেও, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও পুলিশের সতর্কবার্তায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে সারা দেশের ইউনিটগুলোতে পাঠানো এক চিঠিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কা জানানো হয়েছে। গোয়েন্দারা বলছেন, উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক পুরোপুরি নির্মূল হয়নি; বরং তারা বর্তমানে অনলাইনে সংগঠিত হয়ে ‘স্লিপার সেল’ ও ‘লো-প্রোফাইল’ কার্যক্রমের মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
সতর্কবার্তা ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু
পুলিশ সদর দফতরের গোপনীয় শাখা থেকে পাঠানো চিঠিতে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে হামলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে:
- প্রধান লক্ষ্যবস্তু: জাতীয় সংসদ ভবন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর স্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আবাসন এবং শাহবাগ চত্বর।
- ধর্মীয় ও বিনোদন কেন্দ্র: ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনসমাগমপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও হামলার আশঙ্কা করা হয়েছে।
- হামলার ধরণ: বোমা হামলা ছাড়াও দেশীয় ধারালো অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে অতর্কিত হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এমনকি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগার লক্ষ্য করেও নাশকতার ছক থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য
সাম্প্রতিক কিছু গ্রেপ্তার ও বিস্ফোরণের ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে:
- কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণ: গত বছরের ডিসেম্বরে কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় রহস্যজনক বিস্ফোরণের পর ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, সেখানে বড় ধরনের বোমা তৈরির কাজ চলছিল।
- গ্রেপ্তার ও যোগাযোগ: সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামীর সঙ্গে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
- আন্তর্জাতিক যোগসূত্র: লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে সামীর সম্ভাব্য যোগাযোগের তথ্য তদন্তাধীন রয়েছে। সম্প্রতি ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া লস্কর-ই-তৈয়বার ৮ সদস্যের মধ্যে ৭ জনই বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আসছে।
বর্তমান কৌশল: ডিজিটাল র্যাডিক্যালাইজেশন
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গিরা এখন আগের মতো প্রকাশ্য সাংগঠনিক কাঠামো ব্যবহার না করে ছোট ছোট ‘সেল’ ভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। এদের প্রধান অস্ত্র এখন ভার্চুয়াল স্পেস। এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ এবং অনলাইনে তরুণদের মগজধোলাই করে ‘লোন উলফ’ বা একক হামলাকারী তৈরির প্রবণতা বেড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান
ডিএমপি ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমানের মতে, পুলিশের এই চিঠি মূলত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ। এটি নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বরং সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর নিজস্ব শৃঙ্খলা অত্যন্ত শক্তিশালী, তাই বিচ্ছিন্ন কোনো তথ্যের ভিত্তিতে পুরো বাহিনীর ওপর সন্দেহ করা যৌক্তিক নয়।
পুলিশ সদর দফতর এখন গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের ওপর কঠোর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























