দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং ডিজিটাল অবকাঠামো প্রসারের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)-এর আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১৯ কোটি ৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ২৫২তম সভায় অনুমোদিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই সাফল্যের চিত্র উঠে এসেছে।
বিএসসিপিএলসি-এর উপমহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং ও সেলস) প্রকৌশলী মো. আরিফুল হক বলেন, ‘এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের দ্রুত বাড়তে থাকা ব্যান্ডউইথ চাহিদা এবং আমাদের সেবার প্রতি গ্রাহকদের আস্থারই প্রতিফলন’। তিনি আরও জানান, ৩য় সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা আরও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই সংযোগ নিশ্চিত করতে পারবেন। এর ফলে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য এজ ডাটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলা, ডাটা দেশের ভেতরে রাখা, ব্যান্ডউইথ আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং প্রকৃত ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বিএসসিপিএলসি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বিএসসিপিএলসি মোট ২১৯ কোটি ৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৪০ কোটি ৩ লাখ টাকা, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৭৯ কোটি টাকার বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
মুনাফার পাশাপাশি কোম্পানিটির আয়ের মূল খাতগুলোতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। জুলাই-মার্চ সময়ে কোম্পানিটি ব্যান্ডউইথ বিক্রয় ও সংশ্লিষ্ট সেবা থেকে মোট ৩৭৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা আগের বছর ছিল ২৯৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস গত বছরের ৭ টাকা ৪৯ পয়সা থেকে বেড়ে ১১ টাকা ৭১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্যও বৃদ্ধি পেয়ে ৯৮ টাকা ৭১ পয়সা হয়েছে। এছাড়া শেয়ার প্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ৯ টাকা ৭৬ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা কোম্পানির শক্তিশালী নগদ প্রবাহের ইঙ্গিত দেয়। বিএসসিপিএলসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে আইপিএলসি রেন্ট, আইপি ট্রানজিট এবং কো-লোকেশন সার্ভিসের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























