ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন ও মর্মান্তিক তথ্য পাওয়া গেছে। শুক্রবার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী আবুঘারবিয়েহ ইউএসএফেরই একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। এটি আমাদের কমিউনিটিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং যারা এই দুজনের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা।’ তদন্তকারীরা বৃষ্টি-র পরিবারকে ফোনে জানিয়েছেন যে, লিমন এবং সন্দেহভাজনের যৌথ অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রক্তের পরিমাণের ভিত্তিতে তারা মনে করছেন বৃষ্টিও মারা গেছে।

এদিকে, নাহিদা বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত তার ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে তার বোনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার বোন আর আমাদের সাথে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’।

চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরের জানান, পারিবারিক সহিংসতার এক অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়। শেরিফ অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে মারধর, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর খবর না জানানো এবং বেআইনিভাবে লাশ সরানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়ে তাদের এক বন্ধু পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের দিন ক্যাম্পাসের আশপাশেই তাদের শেষবার দেখা গিয়েছিল। মাউরের জানান, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এখনো লিমনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করছেন এবং উইকেন্ডে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে। বৃষ্টির খোঁজ পেতে তল্লাশি ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ইউএসএফের প্রেসিডেন্ট মোয়েজ লিমায়েম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পরিবার ও প্রিয়জনদের পাশে থাকতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে লিমন তার থিসিস নিয়ে কাজ করছিলেন এবং পারিবারিকভাবে লিমন ও বৃষ্টির বিয়ের বিষয়ে কথা চলছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনা এআই বিপজ্জনক: মেধা সম্পদ চুরির অভিযোগে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৬:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন ও মর্মান্তিক তথ্য পাওয়া গেছে। শুক্রবার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ২৬ বছর বয়সী আবুঘারবিয়েহ ইউএসএফেরই একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। এটি আমাদের কমিউনিটিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং যারা এই দুজনের নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা।’ তদন্তকারীরা বৃষ্টি-র পরিবারকে ফোনে জানিয়েছেন যে, লিমন এবং সন্দেহভাজনের যৌথ অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রক্তের পরিমাণের ভিত্তিতে তারা মনে করছেন বৃষ্টিও মারা গেছে।

এদিকে, নাহিদা বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত তার ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে তার বোনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার বোন আর আমাদের সাথে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’।

চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরের জানান, পারিবারিক সহিংসতার এক অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়। শেরিফ অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে মারধর, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর খবর না জানানো এবং বেআইনিভাবে লাশ সরানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়ে তাদের এক বন্ধু পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগের দিন ক্যাম্পাসের আশপাশেই তাদের শেষবার দেখা গিয়েছিল। মাউরের জানান, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এখনো লিমনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করছেন এবং উইকেন্ডে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে। বৃষ্টির খোঁজ পেতে তল্লাশি ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ইউএসএফের প্রেসিডেন্ট মোয়েজ লিমায়েম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পরিবার ও প্রিয়জনদের পাশে থাকতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে লিমন তার থিসিস নিয়ে কাজ করছিলেন এবং পারিবারিকভাবে লিমন ও বৃষ্টির বিয়ের বিষয়ে কথা চলছিল।