আরবি বর্ষপঞ্জির একাদশ মাস জিলকদ, যার আভিধানিক অর্থ ‘বসা’ বা ‘বিশ্রাম করা’। প্রাচীন আরবে এই মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ব্যবসা থেকে বিরত থাকার প্রচলন ছিল, যার কারণে এর এমন নামকরণ। এটি আরবি ১২ মাসের মধ্যে চারটি হারাম বা সম্মানিত মাসের অন্যতম। বাকি তিনটি হলো জিলহজ, মহররম ও রজব। এই সম্মানিত মাসগুলোতে নেক কাজের প্রতিদান যেমন অধিক, তেমনি খারাপ কাজের পরিণতিও গুরুতর।
জিলকদ মাস হজের তিন মাসের দ্বিতীয় মাস। মুসলিম উম্মাহ রজব, শাবান, রমজান ও শাওয়ালের মতো ইবাদতপূর্ণ মাসগুলো পার করার পর জিলকদ মাসে এক ধরনের বিরতি পায়। এর পরের দুই মাস, অর্থাৎ জিলহজ ও মহররম মাসে হজ, কোরবানি এবং নির্দিষ্ট নফল রোজার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত রয়েছে। তাই জিলকদকে মুমিনদের জন্য বিশ্রামের মাস হিসেবে গণ্য করা হয়, যেখানে তারা পরবর্তী ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন।
ইসলামের ইতিহাসে এই মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে হুদায়বিয়ার সন্ধি এবং বাইয়াতে রিদওয়ান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ৮ জিলকদ তারিখে হজ ফরজ হওয়ার নির্দেশ নাজিল হয় এবং পৃথিবীর বুকে কাবার প্রথম ভিত্তি স্থাপিত হওয়ার বর্ণনাও এই তারিখেই পাওয়া যায়। এছাড়া, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় যে চারটি ওমরাহ আদায় করেছেন, তার সবগুলোই ছিল এই জিলকদ মাসে।
যদিও বাজারে প্রচলিত কিছু বইয়ে নির্দিষ্ট ইবাদতের কথা উল্লেখ থাকলেও, জিলকদ মাসে সুনির্দিষ্ট কোনো ইবাদত নেই। তবে হারাম মাস হওয়ায় এই মাসে সাধারণ ইবাদতের ফজিলত বেশি। তাই এই মাসে আইয়ামে বিদের রোজা (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ), প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারের সুন্নত রোজা পালন করা এবং যাদের ওপর হজ ফরজ, তাদের জন্য হজের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা বিশেষ করণীয়।
রিপোর্টারের নাম 

























