ফিলিস্তিনিরা প্রতিবছর ইসরাইলের ভেতরে বার্ষিক প্রত্যাবর্তন পদযাত্রা কর্মসূচি আয়োজন করে, যেখানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি অংশ নেন। তবে এ বছর বিধি-নিষেধের কারণে জনশূন্য ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে ছোট ছোট পদযাত্রার একটি সিরিজে রূপান্তরিত হয়েছিল এই কর্মসূচি। ইসরাইলের পুলিশের আরোপিত নানা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও শত শত ফিলিস্তিনি তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রামগুলোতে গিয়ে ‘নাকবা’ বা বিপর্যয়ের স্মরণে এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় জায়নবাদী মিলিশিয়াদের দ্বারা ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক উচ্ছেদ ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাকেই নাকবা বলা হয়।
ফিলিস্তিনিরা বলেন, এই অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তারা তাদের পরিচয়কে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চান, যা তাদের মতে ইসরাইলের চলমান মুছে ফেলার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একটি প্রয়াস। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠনের মুখপাত্র খালেদ আওয়াদ বলেন, কর্মসূচি আয়োজন নিয়ে প্রায় তিন মাস আগে থেকেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। তবে শুরুতে পুলিশ আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানায় এবং কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে ওই সংগঠন এবং মানবাধিকার সংস্থা আদালাহ ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে আদালত পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দিতে বাধ্য করে।
আলোচনা শুরু হলেও বারবার বিলম্ব ও শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ করেন আওয়াদ। তিনি বলেন, “এ ধরনের সময়ক্ষেপণের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত।” তার মতে, পুলিশ শর্ত দেয় যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এক হাজারের বেশি হতে পারবে না—যা অতীতের তুলনায় অনেক কম এবং “অযৌক্তিক”। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি পতাকা বা জাতীয় প্রতীক প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়, কারণ এগুলো উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে দাবি পুলিশের। আয়োজকদের সতর্ক করে বলা হয়, প্রচলিত বড় আকারে মিছিল করলে বা ফিলিস্তিনি প্রতীক ব্যবহার করা হলে তা ভেঙে দেওয়া হতে পারে। মিছিলটিতে সাধারণত পরিবার, শিশু ও বয়স্করা অংশ নেন উল্লেখ করে আয়োজকরা বলেন, সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে তারা সতর্ক থাকতে চেয়েছেন। আওয়াদ বলেন, এটি এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষ তাদের সন্তানদের নিয়ে আসে। আমরা চাই এটি নিরাপদ থাকুক। তিনি আরো বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষ তাদের গ্রামের সঙ্গে পুনঃসংযোগ স্থাপন এবং ফিরে যাওয়ার অধিকারের দাবি তুলে ধরে। শেষ পর্যন্ত অনুমতি মিললেও তা ছিল কর্মসূচির কয়েকদিন আগে।
রিপোর্টারের নাম 























