ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

কাবা দর্শনকালে পঠিতব্য দোয়া ও তাওয়াফের নিয়মাবলী

ইসলামের পবিত্রতম স্থান মসজিদে হারামে প্রবেশ করে যখন প্রথমবার কাবা শরীফ চোখে পড়বে, তখন বিশেষ একটি দোয়া পড়ার কথা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। দোয়াটি হলো: “আল্লাহুম্মা যিদ হাযাল বাইতা তাশরীফান ওয়া তা’যীমান ওয়া তাকরীমান ওয়া মাহাবাতান ওয়া যিদ মিন শারাফিহি ওয়া ই’যামিহি মিম্মান হাজ্জাহূ আও ই’তামারাহূ তাশরীফান ওয়া তাকরীমান ওয়া তা’যীমান ওয়া মাহাবাতান ওয়া বিররান।” এর অর্থ হলো: “হে আল্লাহ! আপনি এই পবিত্র ঘরকে আরও বেশি সম্মান, মর্যাদা, মহিমা ও ভয়-ভক্তিতে পূর্ণ করুন। আর যারা হজ বা উমরাহ করে তাদের মধ্য থেকেও এই ঘরের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করুন — তাদেরকে সম্মান, মর্যাদা, মহিমা, ভয়-ভক্তি ও পূণ্য দ্বারা অধিকতর সম্মানিত করুন।” তাবেঈ মাকহুল (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) কাবা দেখে এই দোয়াটি পড়তেন।

কাবা তাওয়াফের সময় যেকোনো দোয়া পড়া যেতে পারে, তবে হাদিসে কিছু নির্দিষ্ট দোয়া পাওয়া যায় যা রাসুল (সা.) তাওয়াফের সময় পাঠ করতেন। তাওয়াফ শুরুর সময় এবং প্রতি চক্করের শুরুতে হাজরে আসওয়াদের সামনে তাকবির (অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’) বলা সুন্নত। সহিহ বুখারিতে এসেছে, নবিজি (সা.) কাবা ঘরের চারপাশে উটের পিঠে তাওয়াফ করেছিলেন এবং যখনই তিনি হাজরে আসওয়াদ বরাবর পৌঁছতেন, তখন তার হাতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে সেদিকে ইশারা করতেন এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন।

রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদের দিকে যাওয়ার সময় আল্লাহর রাসুল (সা.) কোরআনে বর্ণিত একটি দোয়া পাঠ করতেন, যা হলো: “রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাহ ওয়া ফিল-আখিরাতি হাসানাহ ওয়া কিনা আযাবান-নার।” এর অর্থ: “হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” (সুরা বাকারা: ২০১)

এছাড়াও, তাওয়াফের সময় যে কোনো জিকির, কোরআন-হাদিসে বর্ণিত অথবা অর্থবোধক যেকোনো দোয়া পাঠ করা যেতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের পূর্বধলা সফর

কাবা দর্শনকালে পঠিতব্য দোয়া ও তাওয়াফের নিয়মাবলী

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামের পবিত্রতম স্থান মসজিদে হারামে প্রবেশ করে যখন প্রথমবার কাবা শরীফ চোখে পড়বে, তখন বিশেষ একটি দোয়া পড়ার কথা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। দোয়াটি হলো: “আল্লাহুম্মা যিদ হাযাল বাইতা তাশরীফান ওয়া তা’যীমান ওয়া তাকরীমান ওয়া মাহাবাতান ওয়া যিদ মিন শারাফিহি ওয়া ই’যামিহি মিম্মান হাজ্জাহূ আও ই’তামারাহূ তাশরীফান ওয়া তাকরীমান ওয়া তা’যীমান ওয়া মাহাবাতান ওয়া বিররান।” এর অর্থ হলো: “হে আল্লাহ! আপনি এই পবিত্র ঘরকে আরও বেশি সম্মান, মর্যাদা, মহিমা ও ভয়-ভক্তিতে পূর্ণ করুন। আর যারা হজ বা উমরাহ করে তাদের মধ্য থেকেও এই ঘরের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করুন — তাদেরকে সম্মান, মর্যাদা, মহিমা, ভয়-ভক্তি ও পূণ্য দ্বারা অধিকতর সম্মানিত করুন।” তাবেঈ মাকহুল (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) কাবা দেখে এই দোয়াটি পড়তেন।

কাবা তাওয়াফের সময় যেকোনো দোয়া পড়া যেতে পারে, তবে হাদিসে কিছু নির্দিষ্ট দোয়া পাওয়া যায় যা রাসুল (সা.) তাওয়াফের সময় পাঠ করতেন। তাওয়াফ শুরুর সময় এবং প্রতি চক্করের শুরুতে হাজরে আসওয়াদের সামনে তাকবির (অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’) বলা সুন্নত। সহিহ বুখারিতে এসেছে, নবিজি (সা.) কাবা ঘরের চারপাশে উটের পিঠে তাওয়াফ করেছিলেন এবং যখনই তিনি হাজরে আসওয়াদ বরাবর পৌঁছতেন, তখন তার হাতে থাকা একটি লাঠি দিয়ে সেদিকে ইশারা করতেন এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন।

রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদের দিকে যাওয়ার সময় আল্লাহর রাসুল (সা.) কোরআনে বর্ণিত একটি দোয়া পাঠ করতেন, যা হলো: “রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাহ ওয়া ফিল-আখিরাতি হাসানাহ ওয়া কিনা আযাবান-নার।” এর অর্থ: “হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখেরাতেও কল্যাণ দিন এবং আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” (সুরা বাকারা: ২০১)

এছাড়াও, তাওয়াফের সময় যে কোনো জিকির, কোরআন-হাদিসে বর্ণিত অথবা অর্থবোধক যেকোনো দোয়া পাঠ করা যেতে পারে।