ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

গাবতলী খেলার মাঠ দখলমুক্ত করবে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা

রাজধানীর মিরপুর মাজার রোডের ঐতিহ্যবাহী গাবতলী খেলার মাঠ অবৈধ দখলমুক্ত করে খেলার উপযোগী করার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার ১০৭ বছরের পুরোনো এই মাঠ পরিদর্শন শেষে তিনি এই অঙ্গীকার করেন।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের গ্রামীণ জনপদসহ ঢাকা মহানগরীর দখলকৃত খেলার মাঠগুলো উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি নিজে এবং কিংবদন্তি ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিনসহ বহু ক্রীড়াবিদ এই মাঠে খেলেছেন উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতিটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

মাঠ দখলমুক্ত করার আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, এখানে আদালতের একটি রায় থাকলেও, আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করে মাঠের বৃহৎ অংশ দখলমুক্ত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না এবং মাঠটি এলাকাবাসী ও স্কুলের শিশুদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরেজমিনে দেখা গেছে মাঠের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশে অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে, এর মধ্যে দখল না ছাড়লে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মাঠ শুধু খেলাধুলা নয়, এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সমাবেশের জন্যও উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১০৭ বছর আগে মরহুম মুন্সি লাল মিয়া ১.৭ একর আয়তনের এই মাঠটি মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নামে ওয়াকফ করেছিলেন। এটি ঢাকা-১৪ আসনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র খেলার মাঠ। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মদদে মাঠের তত্ত্বাবধায়ক বাবলা নামের এক ব্যক্তি করোনা মহামারির সময় রাতের আঁধারে মাঠের জায়গা দখল করে অবৈধ ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করেন এবং তৎকালীন সংসদ সদস্যের ছত্রছায়ায় মাঠের জমি ইজারা দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে মাঠটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় আশপাশের দশটিরও বেশি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাতকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি, ১১টি সিলিং ফ্যান লুট

গাবতলী খেলার মাঠ দখলমুক্ত করবে সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা

আপডেট সময় : ১০:৫৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর মাজার রোডের ঐতিহ্যবাহী গাবতলী খেলার মাঠ অবৈধ দখলমুক্ত করে খেলার উপযোগী করার ঘোষণা দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার ১০৭ বছরের পুরোনো এই মাঠ পরিদর্শন শেষে তিনি এই অঙ্গীকার করেন।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের গ্রামীণ জনপদসহ ঢাকা মহানগরীর দখলকৃত খেলার মাঠগুলো উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি নিজে এবং কিংবদন্তি ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিনসহ বহু ক্রীড়াবিদ এই মাঠে খেলেছেন উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রতিটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।

মাঠ দখলমুক্ত করার আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, এখানে আদালতের একটি রায় থাকলেও, আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করে মাঠের বৃহৎ অংশ দখলমুক্ত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না এবং মাঠটি এলাকাবাসী ও স্কুলের শিশুদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরেজমিনে দেখা গেছে মাঠের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশে অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে, এর মধ্যে দখল না ছাড়লে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মাঠ শুধু খেলাধুলা নয়, এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সমাবেশের জন্যও উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১০৭ বছর আগে মরহুম মুন্সি লাল মিয়া ১.৭ একর আয়তনের এই মাঠটি মিরপুর সিদ্ধান্ত হাই স্কুলের নামে ওয়াকফ করেছিলেন। এটি ঢাকা-১৪ আসনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র খেলার মাঠ। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মদদে মাঠের তত্ত্বাবধায়ক বাবলা নামের এক ব্যক্তি করোনা মহামারির সময় রাতের আঁধারে মাঠের জায়গা দখল করে অবৈধ ভবন ও দোকানপাট নির্মাণ করেন এবং তৎকালীন সংসদ সদস্যের ছত্রছায়ায় মাঠের জমি ইজারা দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে মাঠটি সংকুচিত হয়ে পড়ায় আশপাশের দশটিরও বেশি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে।