ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সংসদে নোটিশের সিরিয়াল নিয়ে অসন্তোষ, কার্যপ্রণালী বিধি নিয়ে সংসদ সদস্যদের বিতর্ক

জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের (বিধি-৭১) আওতায় প্রাপ্ত নোটিশের ওপর আলোচনার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রাপ্ত নোটিশ নিষ্পত্তি পর্বে তিনি অনির্ধারিতভাবে দাঁড়িয়ে এই অসন্তোষ জানান।

মনিরুল হক সাক্কু অভিযোগ করেন, সিরিয়াল পাওয়ার জন্য তাকে সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়াতে হয়, যা অত্যন্ত বিড়ম্বনার। তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে জানতে চান, তার সিরিয়াল কত এবং কেন তাকে ডাকা হয়নি। জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, অফিস থেকে জানা গেছে, যারা প্রথমবার নোটিশ দেন, তাদেরটা আগে যায়। মনিরুল হক একাধিকবার নোটিশ দেওয়ায় তার সিরিয়াল ১৬ নম্বরে রয়েছে এবং তাকে ডাকা হবে বলে আশ্বাস দেন।

এসময় মনিরুল হক সাক্কু আরও বলেন যে, তিনি কষ্ট করে সাতবার নোটিশ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সংসদে কিছুটা হইচই সৃষ্টি হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ সদস্যদের কথা বলার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যদিও স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম নতুন সদস্যদের কথা বলার সুযোগ দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংসদে ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন, যারা তাদের নির্বাচনি এলাকা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী। কিন্তু অনেকেই বারবার সুযোগ পেলেও, কেউ কেউ একবারও কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন না। চিফ হুইপ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, যিনি নোটিশ আগে দেবেন, তারটা যেন সিরিয়াল অনুযায়ী আগে আসে। তিনি মনে করেন, এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে নতুন সদস্যরা উৎসাহিত হবেন এবং সংসদ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। পরে নোটিশের ওপর আলোচনা পর্বে মনিরুল হক সাক্কু পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি চতুর্থবারের মতো সংসদে এসেছেন এবং কোনো অন্যায় বা ভুল করেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাতকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি, ১১টি সিলিং ফ্যান লুট

সংসদে নোটিশের সিরিয়াল নিয়ে অসন্তোষ, কার্যপ্রণালী বিধি নিয়ে সংসদ সদস্যদের বিতর্ক

আপডেট সময় : ১০:৫০:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের (বিধি-৭১) আওতায় প্রাপ্ত নোটিশের ওপর আলোচনার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রাপ্ত নোটিশ নিষ্পত্তি পর্বে তিনি অনির্ধারিতভাবে দাঁড়িয়ে এই অসন্তোষ জানান।

মনিরুল হক সাক্কু অভিযোগ করেন, সিরিয়াল পাওয়ার জন্য তাকে সকাল ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়াতে হয়, যা অত্যন্ত বিড়ম্বনার। তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে জানতে চান, তার সিরিয়াল কত এবং কেন তাকে ডাকা হয়নি। জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, অফিস থেকে জানা গেছে, যারা প্রথমবার নোটিশ দেন, তাদেরটা আগে যায়। মনিরুল হক একাধিকবার নোটিশ দেওয়ায় তার সিরিয়াল ১৬ নম্বরে রয়েছে এবং তাকে ডাকা হবে বলে আশ্বাস দেন।

এসময় মনিরুল হক সাক্কু আরও বলেন যে, তিনি কষ্ট করে সাতবার নোটিশ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সংসদে কিছুটা হইচই সৃষ্টি হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ সদস্যদের কথা বলার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যদিও স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম নতুন সদস্যদের কথা বলার সুযোগ দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংসদে ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন, যারা তাদের নির্বাচনি এলাকা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী। কিন্তু অনেকেই বারবার সুযোগ পেলেও, কেউ কেউ একবারও কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন না। চিফ হুইপ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, যিনি নোটিশ আগে দেবেন, তারটা যেন সিরিয়াল অনুযায়ী আগে আসে। তিনি মনে করেন, এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে নতুন সদস্যরা উৎসাহিত হবেন এবং সংসদ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। পরে নোটিশের ওপর আলোচনা পর্বে মনিরুল হক সাক্কু পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি চতুর্থবারের মতো সংসদে এসেছেন এবং কোনো অন্যায় বা ভুল করেননি।