ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও অধ্যবসায় কমিয়ে দিচ্ছে: গবেষণা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার তাৎক্ষণিক কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি মানুষের চিন্তাশক্তি, অধ্যবসায় এবং স্বতন্ত্রভাবে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

‘অ্যাসিস্ট্যান্স রিডিউসেস পারসিস্টেন্স অ্যান্ড হার্টস ইন্ডিপেনডেন্ট পারফরম্যান্স’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এআই-এর সহায়তা তাৎক্ষণিক পারফরম্যান্স উন্নত করে ঠিকই, তবে এর বিনিময়ে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক চিন্তা-ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক সম্মিলিতভাবে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন।

গবেষণায় মোট ১ হাজার ২২২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর একাধিক র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল চালানো হয়। গবেষকদের মতে, মাত্র ১০ মিনিট এআই ব্যবহার করার পরই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভরতা তৈরি হতে দেখা গেছে। এআই সহায়তা বন্ধ করে দিলে তাদের সঠিক উত্তর দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং অনেকেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা ছেড়ে দেন।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশকে ভগ্নাংশভিত্তিক গাণিতিক সমস্যা সমাধানের সময় ওপেনএআই-এর জিপিটি-৫ ভিত্তিক একটি বিশেষ এআই ব্যবহার করতে দেওয়া হয়, যেখানে অন্য অংশকে কোনো সহায়তা ছাড়া একই কাজ করতে বলা হয়। পরীক্ষার মাঝপথে এআই ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সহায়তা সরিয়ে নেওয়া হলে দেখা যায়, তাদের সঠিক উত্তর দেওয়ার হার দ্রুত কমে যায় এবং অনেকেই পরবর্তী প্রশ্নে আর চেষ্টা করেননি। একই প্রবণতা পরবর্তী বৃহত্তর পরীক্ষাতেও পুনরাবৃত্তি হয়।

গবেষণার সহ-লেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের সহকারী অধ্যাপক রচিত দুবে সতর্ক করে বলেন, ‘এআই সরিয়ে নেওয়ার পর মানুষ শুধু ভুল উত্তরই দিচ্ছে না, তারা চেষ্টা করার ইচ্ছাও হারিয়ে ফেলছে।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতে দ্রুত এআই তৈরি হলে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠতে পারে, যারা নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতনই হবে না। এতে মানবিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে গবেষণায় একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে: যারা এআইকে সরাসরি উত্তর পাওয়ার বদলে ইঙ্গিত, ব্যাখ্যা বা ধারণা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করেছেন, তাদের স্বতন্ত্র পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো ছিল।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, গবেষণাটি এখনো পিয়ার-রিভিউ হয়নি, ফলে এর ফলাফলকে প্রাথমিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক

এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও অধ্যবসায় কমিয়ে দিচ্ছে: গবেষণা

আপডেট সময় : ০৩:২১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার তাৎক্ষণিক কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি মানুষের চিন্তাশক্তি, অধ্যবসায় এবং স্বতন্ত্রভাবে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

‘অ্যাসিস্ট্যান্স রিডিউসেস পারসিস্টেন্স অ্যান্ড হার্টস ইন্ডিপেনডেন্ট পারফরম্যান্স’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, এআই-এর সহায়তা তাৎক্ষণিক পারফরম্যান্স উন্নত করে ঠিকই, তবে এর বিনিময়ে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক চিন্তা-ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক সম্মিলিতভাবে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন।

গবেষণায় মোট ১ হাজার ২২২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর একাধিক র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল চালানো হয়। গবেষকদের মতে, মাত্র ১০ মিনিট এআই ব্যবহার করার পরই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভরতা তৈরি হতে দেখা গেছে। এআই সহায়তা বন্ধ করে দিলে তাদের সঠিক উত্তর দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং অনেকেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা ছেড়ে দেন।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশকে ভগ্নাংশভিত্তিক গাণিতিক সমস্যা সমাধানের সময় ওপেনএআই-এর জিপিটি-৫ ভিত্তিক একটি বিশেষ এআই ব্যবহার করতে দেওয়া হয়, যেখানে অন্য অংশকে কোনো সহায়তা ছাড়া একই কাজ করতে বলা হয়। পরীক্ষার মাঝপথে এআই ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সহায়তা সরিয়ে নেওয়া হলে দেখা যায়, তাদের সঠিক উত্তর দেওয়ার হার দ্রুত কমে যায় এবং অনেকেই পরবর্তী প্রশ্নে আর চেষ্টা করেননি। একই প্রবণতা পরবর্তী বৃহত্তর পরীক্ষাতেও পুনরাবৃত্তি হয়।

গবেষণার সহ-লেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের সহকারী অধ্যাপক রচিত দুবে সতর্ক করে বলেন, ‘এআই সরিয়ে নেওয়ার পর মানুষ শুধু ভুল উত্তরই দিচ্ছে না, তারা চেষ্টা করার ইচ্ছাও হারিয়ে ফেলছে।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতে দ্রুত এআই তৈরি হলে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠতে পারে, যারা নিজেদের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতনই হবে না। এতে মানবিক উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে গবেষণায় একটি ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে: যারা এআইকে সরাসরি উত্তর পাওয়ার বদলে ইঙ্গিত, ব্যাখ্যা বা ধারণা পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করেছেন, তাদের স্বতন্ত্র পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো ছিল।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, গবেষণাটি এখনো পিয়ার-রিভিউ হয়নি, ফলে এর ফলাফলকে প্রাথমিক পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত।