ঢাকা ০৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

এক বছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা

সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। গত জানুয়ারি শেষে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের মোট পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে সরকারের নেওয়া অভ্যন্তরীণ ঋণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নিয়েছে ৭২ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। এর মানে হলো, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে প্রায় ৭.১০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৬৪ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ৭ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অন্যদিকে, গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল ১৫ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে নেওয়া হয়েছিল ২৪ হাজার ৬১২ কোটি টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে নেওয়া এই ঋণগুলো মূলত নির্বাচনি ব্যয়, নতুন ব্যাংকে বিনিয়োগ এবং পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য নেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় না হওয়ায় সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়েছে, যার ফলে ঋণের পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়েছে। প্রতি বছরই বড় অঙ্কের বাজেট ঘাটতি রেখে বাজেট পেশ করে সরকার, যা পূরণের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। বৈদেশিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা না পেলে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যাংকব্যবস্থা, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং সঞ্চয়পত্র খাত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে

এক বছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০২:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। গত জানুয়ারি শেষে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের মোট পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে সরকারের নেওয়া অভ্যন্তরীণ ঋণের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নিয়েছে ৭২ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। এর মানে হলো, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে প্রায় ৭.১০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৬৪ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ৭ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অন্যদিকে, গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল ১৫ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে নেওয়া হয়েছিল ২৪ হাজার ৬১২ কোটি টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে নেওয়া এই ঋণগুলো মূলত নির্বাচনি ব্যয়, নতুন ব্যাংকে বিনিয়োগ এবং পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য নেওয়া হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় না হওয়ায় সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়েছে, যার ফলে ঋণের পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়েছে। প্রতি বছরই বড় অঙ্কের বাজেট ঘাটতি রেখে বাজেট পেশ করে সরকার, যা পূরণের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। বৈদেশিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা না পেলে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যাংকব্যবস্থা, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং সঞ্চয়পত্র খাত।