চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মূল্যবৃদ্ধিকে কোনো স্থায়ী সমাধান হিসেবে না দেখে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জোরালো পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাবে, যা আদতে কোনো সুফল বয়ে আনবে না। এই মুহূর্তে প্রশাসনের ভেতরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সক্ষমতার অভাব এবং প্রশাসনের একাংশের সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের কারণে সরকারি বিভিন্ন অঙ্গ অকার্যকর হয়ে পড়ছে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে সংসদে ‘জরুরি অবস্থা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘ইন এইড অব সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হলে অবৈধ মজুতদারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে বাধ্য। ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ তেল জব্দ এবং প্রায় দুই শতাধিক মামলা দায়ের হলেও পেট্রোল পাম্পের দীর্ঘ সারি ও জনভোগান্তি না কমায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ক্যাবের উপদেষ্টা ড. শামসুল আলমের মতে, সরকার যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দেয়, সিস্টেমের ত্রুটি ও দুর্নীতির কারণে তার দ্বিগুণ অর্থ গচ্চা যাচ্ছে; তাই দাম বৃদ্ধি নয়, বরং চুরি বন্ধ করাই এখন প্রধান কাজ। সেনাবাহিনীর বিশ্বজুড়ে শান্তি রক্ষার সক্ষমতাকে দেশের এই জ্বালানি সম্পদ রক্ষায় ব্যবহারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এস কে এম শফিকুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ আহমেদ পাঠান মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চলতে পারে না এবং সেনাবাহিনীকে যুক্ত করলে সরকারের কঠোর অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছাবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) ইমরান সরাসরি বলেছেন যে, সেনাবাহিনী নামলে মজুতদাররা তেলের অবৈধ ভাণ্ডার ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে। সাধারণ মানুষ ও পেট্রোল পাম্প মালিকদেরও অভিন্ন মত যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যানজট নিরসনে যদি সেনাবাহিনী সফল হতে পারে, তবে জ্বালানি সংকটের মতো জাতীয় দুর্যোগেও তাদের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববাজারের সাথে মূল্য সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে বুদ্ধিমত্তার কাজ।
রিপোর্টারের নাম 

























