দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় লিচু বাগানগুলোকে কেন্দ্র করে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে এক অভাবনীয় ‘মধু বিপ্লব’ শুরু হয়েছে। লিচুর মুকুলের ম ম গন্ধে বাগানগুলোতে এখন হাজার হাজার মৌমাছির গুঞ্জন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাক্স বসিয়ে এপিস মেলিফেরা জাতের মৌমাছি দিয়ে এই মধু সংগ্রহ করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে চিরিরবন্দরে প্রায় ৫৯০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিটি গাছ মুকুলে ভরে গেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন হওয়ায় এ বছর লিচুর ফলন গত বছরের তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বাগানগুলো থেকে এ বছর প্রায় ৩০ মেট্রিক টন মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
মধু সংগ্রহের জন্য নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৌচাষিরা চিরিরবন্দরে ভিড় জমিয়েছেন। টাঙ্গাইল থেকে আসা মৌচাষিরা জানান, তারা আধুনিক ব্রুড ও নিউক্লিয়াস বক্স ব্যবহার করে প্রতি সপ্তাহে বাগান থেকে ৩ থেকে ৫ মণ মধু সংগ্রহ করছেন। যদিও মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল, তবে মধুর ভালো দাম থাকায় সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তারা।
স্থানীয় লিচু চাষিরাও বাগানে মৌচাষিদের উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মৌমাছির কারণে পরাগায়ন ভালো হওয়ায় ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগবালাইও কম হচ্ছে। এতে কীটনাশকের ব্যবহার কম লাগছে এবং চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। লিচু ও মধুর এই দ্বিমুখী উৎপাদন চিরিরবন্দরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























