ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় কূপ মডেল পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন করে গ্রামীণ নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ব্রয়লার, লেয়ার ও পাকিস্তানি মুরগির বাজারে সয়লাব হওয়ার বিপরীতে দেশি মুরগির চাহিদা ধরে রাখতে এবং নিত্যদিনের অভাব দূর করতে এই উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। অল্প জায়গা ও কম পুঁজিতে এই পদ্ধতিতে মুরগি পালন করে নারীরা ঘরে বসেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন এবং কর্মসংস্থান তৈরি করছেন।
উপজেলার ওমরপুর গ্রামের নারী খামারি শিরিন বেগম জানান, কূপ মডেল পদ্ধতিতে মুরগি পালন তুলনামূলকভাবে সহজ এবং এতে রোগব্যাধির ঝুঁকিও কম। দেশীয় পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালনের জন্য আলাদা সময় বা বিশেষ খাদ্য সরবরাহের প্রয়োজন হয় না। বাচ্চাগুলো তিন থেকে চার মাস বয়সেই প্রজননক্ষম হয় এবং ডিম দিতে শুরু করে। প্রতিটি মুরগি বছরে ২০০ থেকে ২৫০টি ডিম দেয়। এছাড়া, ডিম ফোটানোর পর দুই মাস বয়সের একটি বাচ্চা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়, যা খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করছে।
জানা গেছে, পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্বাচিত খামারিদের ১৫০টি দেশি মুরগির বাচ্চা, প্রয়োজনীয় টিকাদান এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। এর ফলে স্থানীয় নারী খামারিরা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সক্ষম হচ্ছেন।
উন্নয়ন সংস্থা এফডিএর পরিচালক কামাল উদ্দিন বলেন, চরফ্যাশনের খামারিরা বাড়ির আঙিনায় অল্প জায়গায় মুরগির জন্য ছোট ঘর বা খোঁপ তৈরি করে এবং দিনের বেলা ছেড়ে পালনের মাধ্যমে অল্প খরচে প্রচুর লাভবান হতে পারেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাজন আলীও জানান, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত টিকা এবং প্রশিক্ষণের ফলে খামারিরা সফল হচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















