ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

অষ্টগ্রামে প্রণোদনা বিতরণে স্বজনপ্রীতি: প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত, ক্ষোভের সঞ্চার

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আটটি ইউনিয়নে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও উজানের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এই সহায়তা বিতরণের তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই পুরো উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে তালিকায় স্থান পেয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং এমনকি মৃত ও প্রবাসীদের নামও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাঙালপাড়া ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের মৃত ইসহাক মিয়া, যার পিতা মৃত হোসেন আলী, তিনি দীর্ঘদিন আগে মারা গেলেও তার নাম ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে, দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের অলি মিয়া (পিতা. ইসাম উদ্দিন) এবং দেওঘর গ্রামের সোহেল আহমেদ (পিতা. ধন মিয়া) দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করলেও তাদের নাম রহস্যজনকভাবে তালিকায় স্থান পেয়েছে। এছাড়াও, অনেকেই জীবিকার তাগিদে স্থায়ীভাবে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে বসবাস করছেন এবং কেবল ঈদেই এলাকায় আসেন, অথচ তারাও এখন সরকারি খাতা-কলমে ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

কাস্তুল ইউনিয়নের তালিকায় দেখা গেছে, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোয়াব মিয়া, যুবদল সভাপতি ফারুক এবং বাদল— এদের প্রত্যেকেরই স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সদর ইউনিয়নের তালিকায়ও বিএনপির বড় নেতাদের নাম ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নামের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা গেছে।

এ বিষয়ে সদর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাজী মঞ্জু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ১০ একর জমিতে চাষাবাদ করেছিলাম। তার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অথচ সরকারি তালিকায় আমার নাম নেই। এখন দেখছি কৃষক হওয়া লাগে না, শুধু পদবিওয়ালা নেতাদের পিছনে ঘুরলেই বউ, জি (মেয়ে), পুত (ছেলে) সবার নামই তালিকায় ঢুকে যায়।’ প্রান্তিক কৃষক কলাপাড়ার বাপ্পি মিয়া জানান, দুই-তিনটি পাড়ায় প্রায় প্রতি ঘরেই নারী-পুরুষসহ একাধিক নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে, অথচ এমন পাড়াও আছে যেখানে একজন প্রকৃত কৃষকের নামও নেই। তিনি আরও বলেন, ‘অষ্টগ্রামে মহিলা কৃষক আছে—আমি এই প্রথম শুনলাম।’ হাবেলী পাড়ার বর্গাচাষি মালেকের এবং দাসপাড়ার কৃষক রেজাউল ইসলাম রেজুর মতো প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামও তালিকায় বাদ পড়েছে, যেখানে মালেকের ২০ একর জমির মধ্যে ১৫ একর এবং রেজুর ৩০ একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

অষ্টগ্রামে প্রণোদনা বিতরণে স্বজনপ্রীতি: প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত, ক্ষোভের সঞ্চার

আপডেট সময় : ০৭:০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আটটি ইউনিয়নে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও উজানের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এই সহায়তা বিতরণের তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই পুরো উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে তালিকায় স্থান পেয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, তাদের আত্মীয়-স্বজন এবং এমনকি মৃত ও প্রবাসীদের নামও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাঙালপাড়া ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের মৃত ইসহাক মিয়া, যার পিতা মৃত হোসেন আলী, তিনি দীর্ঘদিন আগে মারা গেলেও তার নাম ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে, দেওঘর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের অলি মিয়া (পিতা. ইসাম উদ্দিন) এবং দেওঘর গ্রামের সোহেল আহমেদ (পিতা. ধন মিয়া) দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করলেও তাদের নাম রহস্যজনকভাবে তালিকায় স্থান পেয়েছে। এছাড়াও, অনেকেই জীবিকার তাগিদে স্থায়ীভাবে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে বসবাস করছেন এবং কেবল ঈদেই এলাকায় আসেন, অথচ তারাও এখন সরকারি খাতা-কলমে ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

কাস্তুল ইউনিয়নের তালিকায় দেখা গেছে, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোয়াব মিয়া, যুবদল সভাপতি ফারুক এবং বাদল— এদের প্রত্যেকেরই স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সদর ইউনিয়নের তালিকায়ও বিএনপির বড় নেতাদের নাম ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নামের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা গেছে।

এ বিষয়ে সদর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাজী মঞ্জু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ১০ একর জমিতে চাষাবাদ করেছিলাম। তার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অথচ সরকারি তালিকায় আমার নাম নেই। এখন দেখছি কৃষক হওয়া লাগে না, শুধু পদবিওয়ালা নেতাদের পিছনে ঘুরলেই বউ, জি (মেয়ে), পুত (ছেলে) সবার নামই তালিকায় ঢুকে যায়।’ প্রান্তিক কৃষক কলাপাড়ার বাপ্পি মিয়া জানান, দুই-তিনটি পাড়ায় প্রায় প্রতি ঘরেই নারী-পুরুষসহ একাধিক নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে, অথচ এমন পাড়াও আছে যেখানে একজন প্রকৃত কৃষকের নামও নেই। তিনি আরও বলেন, ‘অষ্টগ্রামে মহিলা কৃষক আছে—আমি এই প্রথম শুনলাম।’ হাবেলী পাড়ার বর্গাচাষি মালেকের এবং দাসপাড়ার কৃষক রেজাউল ইসলাম রেজুর মতো প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামও তালিকায় বাদ পড়েছে, যেখানে মালেকের ২০ একর জমির মধ্যে ১৫ একর এবং রেজুর ৩০ একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।