পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরও যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা পৌঁছাতে পারেনি। এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সমঝোতা না হওয়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার ব্যর্থতাকে ইরানের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইসলামাবাদ ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর।’ অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যর্থতাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছে এবং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, একটি বৈঠকে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। তেহরান শুরু থেকেই জানত যে একটি মাত্র সেশনে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
গত ৪৪ দিন ধরে চলা এই সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যাদের বড় অংশই ইরানি নাগরিক। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করেছে। বৈঠক ব্যর্থ হলেও পাকিস্তান হাল ছাড়ছে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, দুই শত্রু দেশের মধ্যে শান্তি ফেরাতে ইসলামাবাদ তাদের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং উভয় পক্ষকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে।
রিপোর্টারের নাম 























