নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য নদ-নদী। উত্তরের জেলা নীলফামারীতেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এক সময় প্রমত্তা ও গভীর স্রোতধারা থাকলেও বর্তমানে জেলার ছোট-বড় প্রায় ৪০টি নদী এখন পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। পানির অভাবে মৃতপ্রায় এসব নদীর বুকে এখন জেগে উঠেছে বিশাল চর, যেখানে কৃষকরা বোরো ধান, ভুট্টা, তামাক, রসুন ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করছেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারত কর্তৃক একতরফা পানি প্রত্যাহার এবং তিস্তার উজানে গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীগুলো আজ নাব্য হারিয়েছে। এককালের প্রমত্তা নদীগুলো এখন কেবলই মরা খালে পরিণত হয়েছে। এতে পরিবেশের ওপর চরম বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। এক সময়ের প্রবীণদের স্মৃতিতে থাকা পালতোলা নৌকা কিংবা পণ্যবাহী বড় নৌকার আনাগোনা এখন আর চোখে পড়ে না।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ওপর দিয়ে তিস্তা, চাড়ালকাটা, বুড়িতিস্তা, বুড়িখোড়া, ধুম, পাঙ্গা-খেড়ুয়া, কুমলাই, নাউতারা, যমুনেশ্বরী, নলডাঙ্গা, ইছামতী, খড়খড়িয়া, বুল্লাই, দেওনাই, শালকী, চিকলী, কলমদার ও বামন ডাঙ্গাসহ প্রায় ৪০টি নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। গত পাঁচ দশকে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীগুলোর গভীরতা কমে এখন মাত্র ৩ থেকে ৫ ফুটে দাঁড়িয়েছে। অনেক নদী এখন কেবল মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা। মাছের অভাব ও কর্মসংস্থান হারিয়ে অনেক পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। অন্যদিকে, নদীগুলোর পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই দুই কূল ছাপিয়ে দেখা দিচ্ছে বন্যা, যা ফসলি জমি ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি করছে। তবে আশার কথা হলো, নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতিমধ্যে পুনঃখননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























