কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা ও পরিবহনে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবে ডিজেলের বাজারে চাপ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণে ধান উৎপাদনের বাড়তি খরচ নিয়ে হাজারো কৃষক চরম উদ্বেগে রয়েছেন। সময়মতো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ধান কাটা ও সংরক্ষণে বড় ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমের শেষ দিকে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলায় ধান কাটার সময় বিপুল পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হয়। বর্তমানে চলমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের দাবি, সরকার যদি সঠিক দামে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করে, তাহলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই তিন উপজেলায় এবার মোট ৬৭ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে দেশি, উফশী ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান কাটা ও মাড়াই করা হবে কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে। কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, এবার প্রায় ৬৪৫টি হারভেস্টার এবং ধান ও খড় পরিবহনে কয়েক হাজার ট্রলি, ট্রাক, পিকআপ ও নৌকা-ট্রলার ব্যবহার করা হবে। এসব যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬ লাখ ৫৪ হাজার ৯৬০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হবে।
ইতোমধ্যে ‘উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটি’ এই সম্ভাব্য জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি জেলা কৃষি অফিসকে জানিয়েছে। তথ্যানুযায়ী, অষ্টগ্রামে ৫ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ লিটার, ইটনায় ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮৫০ লিটার এবং মিঠামইনে ৪ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় স্থানীয় হাট-বাজার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে ডিজেল সরবরাহ অপ্রতুল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তারা চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল ও কেরোসিন সংগ্রহ করতে পারছেন না। সরকার নির্ধারিত দাম অপরিবর্তিত থাকলেও পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এতে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। অষ্টগ্রামের কৃষক আবদুল হামিদ (৫৩) বলেন, “আগে যেখানে ১ হাজার টাকায় হারভেস্টার চলত, এখন সেখানে ১ হাজার ২০০ টাকা লাগছে। জ্বালানির অভাবে সময়মতো ধান কাটতে না পারলে সব নষ্ট হয়ে যাবে।”
রিপোর্টারের নাম 

























