ঢাকা ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

অর্থমন্ত্রীর সংসদে দেশের আর্থিক চিত্র উপস্থাপন: বিগত সরকারের অনিয়ম ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

জাতীয় সংসদে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর দেওয়া বিবৃতিতে আর্থিক খাতে বিগত সরকারের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। মন্ত্রী বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের আর্থিক খাতের চিত্রও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকার অর্থনীতিতে সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতকে অকার্যকর করে দিয়েছে। অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে হুন্ডি প্রবাহ এবং অর্থ পাচারের ফলে রিজার্ভের পরিমাণ কমে ২০ বিলিয়নে নেমে আসে। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে এবং রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় যে রেমিট্যান্সগুলো বন্ধ ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা বেড়েছে। এই রেমিট্যান্স না বাড়লে বর্তমান সরকারের সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা খুবই কঠিন হতো। কারণ দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রায় সবগুলো অর্থনৈতিক সূচকই নিম্নগামী ছিল।

মন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের আমলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অধীনে ভাতা প্রদান করা হলেও ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে যৌক্তিকীকরণ করা হয়নি, যার ফলে উপকারভোগীরা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বাইরে থেকে গেছেন এবং বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ ও দুর্নীতির প্রমাণও মিলেছে।

বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। বাজার সিন্ডিকেটগুলো এই পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

মন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। ঘাটতি অর্থায়নের বিকল্প হিসেবে সহজ শর্তে বৈদেশিক উৎস এবং মূলধন বাজার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। ঘাটতি অর্থায়ন ও এর উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ ও ঋণের ঝুঁকি হ্রাসের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পে রাজস্ব খাত থেকে অর্থায়ন বাড়িয়ে ঋণনির্ভরতা কমানো এবং জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যাদেশ ও সংস্কার ইস্যুতে সরকারের ইউ-টার্ন

অর্থমন্ত্রীর সংসদে দেশের আর্থিক চিত্র উপস্থাপন: বিগত সরকারের অনিয়ম ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০১:১০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর দেওয়া বিবৃতিতে আর্থিক খাতে বিগত সরকারের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। মন্ত্রী বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের আর্থিক খাতের চিত্রও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকার অর্থনীতিতে সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতকে অকার্যকর করে দিয়েছে। অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে হুন্ডি প্রবাহ এবং অর্থ পাচারের ফলে রিজার্ভের পরিমাণ কমে ২০ বিলিয়নে নেমে আসে। তবে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে এবং রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় যে রেমিট্যান্সগুলো বন্ধ ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা বেড়েছে। এই রেমিট্যান্স না বাড়লে বর্তমান সরকারের সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা খুবই কঠিন হতো। কারণ দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রায় সবগুলো অর্থনৈতিক সূচকই নিম্নগামী ছিল।

মন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের আমলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অধীনে ভাতা প্রদান করা হলেও ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে যৌক্তিকীকরণ করা হয়নি, যার ফলে উপকারভোগীরা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বাইরে থেকে গেছেন এবং বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ ও দুর্নীতির প্রমাণও মিলেছে।

বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। বাজার সিন্ডিকেটগুলো এই পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

মন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। ঘাটতি অর্থায়নের বিকল্প হিসেবে সহজ শর্তে বৈদেশিক উৎস এবং মূলধন বাজার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। ঘাটতি অর্থায়ন ও এর উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ ও ঋণের ঝুঁকি হ্রাসের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পে রাজস্ব খাত থেকে অর্থায়ন বাড়িয়ে ঋণনির্ভরতা কমানো এবং জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।