রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব এখন নিয়ন্ত্রণহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বছরে হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত এক সপ্তাহের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ৩ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনেই হাসপাতালটিতে ১৬ জন শিশু মারা গেছে। বর্তমানে ১৩২ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং এ পর্যন্ত মোট ৪৭৯ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে নতুন করে ২০ থেকে ৩০ জন শিশু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই অত্যন্ত জটিল অবস্থায় হাসপাতালে আসছে। জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে হাসপাতালে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দেরিতে ভর্তির কারণে ফুসফুস ও মস্তিষ্কে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, যা মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আইসিইউ সংকটের মধ্যে বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
বর্তমানে রামেক হাসপাতালে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আইসোলেশন জোরদার করার পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে যে হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বা ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণের ভয়াবহতা রোধে আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























