ঢাকা ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

উত্তরাঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলনেও বিপাকে কৃষক, লোকসান দেড় হাজার কোটি টাকা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বগুড়াসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজারে বিক্রয়মূল্য অনেক কম হওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষ করে কৃষকদের ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘাটতি গুনতে হচ্ছে। গত দুই মৌসুমে এই অঞ্চলের কৃষকদের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বগুড়ার মহাস্থান হাট, শেরপুর ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জাতের আলু মণপ্রতি মাত্র ২৪০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বিবেচনায় এই দাম অত্যন্ত নগণ্য। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেল ও পরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে ঢাকা বা চট্টগ্রামে আলু পাঠিয়েও তারা মুনাফা করতে পারছেন না। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই এখন দিশেহারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া ও জয়পুরহাট অঞ্চলে আলুর আবাদ ও ফলন গত কয়েক বছরের তুলনায় বেড়েছে। তবে বাজারে দামের ধস নামায় এই সাফল্য কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কৃষক হিমাগারে আলু সংরক্ষণের চেষ্টা করলেও সেখানে সিরিয়াল পাওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পর্যাপ্ত বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি নজরদারির অভাবে প্রতি বছরই আলু চাষিদের এমন করুণ পরিণতির শিকার হতে হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যাদেশ ও সংস্কার ইস্যুতে সরকারের ইউ-টার্ন

উত্তরাঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলনেও বিপাকে কৃষক, লোকসান দেড় হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৫:২৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়াসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজারে বিক্রয়মূল্য অনেক কম হওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষ করে কৃষকদের ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘাটতি গুনতে হচ্ছে। গত দুই মৌসুমে এই অঞ্চলের কৃষকদের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বগুড়ার মহাস্থান হাট, শেরপুর ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জাতের আলু মণপ্রতি মাত্র ২৪০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বিবেচনায় এই দাম অত্যন্ত নগণ্য। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেল ও পরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে ঢাকা বা চট্টগ্রামে আলু পাঠিয়েও তারা মুনাফা করতে পারছেন না। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই এখন দিশেহারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া ও জয়পুরহাট অঞ্চলে আলুর আবাদ ও ফলন গত কয়েক বছরের তুলনায় বেড়েছে। তবে বাজারে দামের ধস নামায় এই সাফল্য কৃষকের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কৃষক হিমাগারে আলু সংরক্ষণের চেষ্টা করলেও সেখানে সিরিয়াল পাওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পর্যাপ্ত বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি নজরদারির অভাবে প্রতি বছরই আলু চাষিদের এমন করুণ পরিণতির শিকার হতে হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।