‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধীদল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছুক্ষণ আগে বিরোধীদল এই পদক্ষেপ নেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদল এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ অধিবেশন বর্জন করল। এসময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংসদের বৈঠকের সভাপতিত্ব করছিলেন।
ওয়াকআউটের পূর্বে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও আজ কয়েকটি গণবিরোধী বিল পাস হয়েছে। আমরা এর দায় নিতে চাই না। এজন্য আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’ এই ঘোষণা দেওয়ার পরই ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আজকের দিন বিচারবিভাগের স্বাধীনতার জন্য বেদনাদায়ক। আলোচনা কিছুটা করতে পারলেও সরকার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে আইনটি রহিত করা হলো। সরকার কেবল সেই আইনগুলোই পাস করছে যা তাদের ক্ষমতাকে আরও বৃদ্ধি করতে পারে। সরকারের এই দ্বিমুখী অবস্থান দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে না।’
বিরোধীদল ওয়াকআউট করার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানানোর জন্য উঠেছি। আইন প্রক্রিয়ার ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং—সকল প্রক্রিয়ায় উনারা সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও করেছেন। সমস্ত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পরে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কি না, এটা জানার জন্য উঠেছি। সমস্ত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ। আশা করি, মাগরিবের নামাজের পর আবারও অংশগ্রহণ করবেন।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুন:প্রচলন) বিল, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল; জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল, জেলা পরিষদ বিল, পৌরসভা বিলসহ কয়েকটি বিলে আপত্তি জানিয়েছিল বিরোধীদল। তবে তাদের আপত্তি সত্ত্বেও কণ্ঠভোটে সবগুলো বিল পাস হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























