যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চললেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা থামছে না। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে চালানো একাধিক ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে কঠিন জবাব দেওয়া হবে।
লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মাইফাদুন এলাকায় দুটি গাড়ি লক্ষ্য করে পৃথক ড্রোন হামলা চালানো হয়। একই সময়ে শৌকিন গ্রামেও আরেকটি গাড়িতে হামলা হয় বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে। এই ধারাবাহিক হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ও সংবেদনশীল আলোচনার শুরু থেকেই ইরানি কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করতে হবে। যদিও সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত ও চূড়ান্ত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গত সোমবার বলেছিলেন, ওই চুক্তিতে ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার স্পষ্ট করে বলেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত দখলদারিত্ব ওই চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই যুদ্ধে দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার না হলে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যাবে না।’ ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে, লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করতে, ঘরবাড়ি ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে এবং দখল করা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 





















