বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন মডেল থানার মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক আফজাল নাছেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত রিমান্ডের এই আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মতিঝিল গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড মঞ্জুরের এই আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, এই মামলায় আফজাল নাছের গত রোববার থেকে রিমান্ডে ছিলেন। এর আগে জুলাই আন্দোলনে নিহত দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির নিহতের মামলায় তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছিল। এ নিয়ে তৃতীয় দফায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হলো।
রিমান্ডের যুক্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, তিনি (নাছের) ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী ও সুবিধাভোগী ছিলেন। তদন্তের স্বার্থে তার কাছ থেকে আরও তথ্য বের করার জন্য চার দিনের রিমান্ডের প্রার্থনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, আফজাল নাছেরের পক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন এর বিরোধিতা করে বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে একটি পুরস্কার পাওয়া ছাড়া আর কোনো সুবিধা তিনি নেননি। শুধু নাম ছাড়া এই মামলায় তার বিরুদ্ধে কিছু নেই। তিনি ইতিমধ্যে তিন দিন রিমান্ডে ছিলেন। যদি আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হয়, তবে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালায়, কার্যালয় ভাঙচুর করে এবং কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ।
রিপোর্টারের নাম 
























