সীমান্তে ফের প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে মো. আলী হোসেন (৪৯) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় সীমান্তজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ভোর রাতে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ধবলগুড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়, সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫-এস সংলগ্ন শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিএসএফের সাতগ্রাম ক্যাম্প এলাকায় এই গুলির ঘটনা ঘটে। প্রথমে রাত ২টা ৫০ মিনিটে এবং পরে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে গুলির শব্দ শোনা যায়।
সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হলে বিএসএফ জানায়, ৭-৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করে তারকাঁটা বেড়া কাটার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দিতে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়। তাদের দাবি, এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
নিহত মো. আলী হোসেন ধবলগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পানিয়ারটারী গ্রামের বাসিন্দা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভারতের অভ্যন্তরে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আব্দুল গফুরের পুত্র ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলী হোসেন পেশায় একজন কৃষক এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্ত্রী-সন্তানদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের ওপর গুলি চালানোর প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্তে এমন ঘটনা বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এদিকে, বিজিবি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য যাচাই করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে স্পট মিটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























