ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সিফফিনের বিতর্ক: সরকার বনাম বিরোধী দল, পথের দ্বন্দ্ব

‘সরকার ও বিরোধী দলে যুদ্ধ কেন’—এই প্রশ্নটি শিরোনাম করে উদ্ভূত পরিস্থিতি, এর কারণ এবং সম্ভাব্য কিছু পরিণতি নির্মোহভাবে তুলে ধরেছেন আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। তবে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলো কোনো রেফারি বা আম্পায়ারকে জায়গা দিতে আগ্রহী নন। যারা বিবেকের তাড়নায় রেফারি, আম্পায়ার বা ফায়ার ফাইটার হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাইছেন, তাদের কখনো গুপ্ত জামায়াত আবার কখনো বিএনপির দালাল আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

আসল বিষয় হলো, ৫ আগস্টের আগে যারা শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্রন্টে একসঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন, তারা আজ একে অপরের মুখোমুখি। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে, বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপির মধ্যকার বর্তমান তিক্ততা আগের আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াতের তিক্ততার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এই তিক্ততাকে কাজে লাগাতে পারে জুলাই অভ্যুত্থানের মূল প্রতিপক্ষ শক্তি।

সরকারের বয়স ৩৬ দিন না হলেও, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকার পতনের জন্য ৩৬ ঘণ্টার আলটিমেটাম উচ্চারণ করা হচ্ছে। কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে এবং আমাদের গন্তব্য কোন দিকে—ইসলামের ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক ঘটনা আমাদের তা বলে দিতে পারে। উভয় পক্ষকে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা-ভাবনার অনুরোধ জানাচ্ছি।

সরকারের বাইরে থেকে অনেক সমালোচনা সহজ; কিন্তু ভেতরের বাস্তবতা ভিন্ন। এনসিপির নাহিদ এবং আসিফ সরকারে ছিলেন। তখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ তাদের চোখে পড়েনি। বিএনপি এবং জামায়াতসহ অন্যান্য দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও এনসিপি তখন করেনি। সেই তারাই এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির ভিন্ন পদ্ধতি সহ্য করতে পারছেন না বা এর জন্য ধৈর্য ধারণ করতে পারছেন না। সরকারও বোধহয় পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে সামলাতে পারছে না। এ ব্যাপারে সরকারের একটি অংশের অনভিজ্ঞতা, কারো কারো অতি-আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস বা সন্দেহ দানা বাঁধিয়ে ফেলছে।

বিষয়গুলো নিয়ে যে বিতর্ক ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট না করলে সরকারের জন্য তাৎক্ষণিক বিপদ ডেকে আনতে পারে। টিআইবির ইফতেখারুজ্জামান, আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মতো মানুষদের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো দেখলেই সম্ভবত বোঝা যাবে বাতাস কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। শহিদুল আলম বলেছেন, যদিও আমি জামায়াত-শিবির ঘোরবিরোধী, তবু আমি শিবিরের প্রোগ্রামে এসেছি, কারণ জ…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী: ১৪ স্থানে ব্যারিকেড ও কঠোর বিধিনিষেধ

সিফফিনের বিতর্ক: সরকার বনাম বিরোধী দল, পথের দ্বন্দ্ব

আপডেট সময় : ১০:০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

‘সরকার ও বিরোধী দলে যুদ্ধ কেন’—এই প্রশ্নটি শিরোনাম করে উদ্ভূত পরিস্থিতি, এর কারণ এবং সম্ভাব্য কিছু পরিণতি নির্মোহভাবে তুলে ধরেছেন আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ। তবে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলো কোনো রেফারি বা আম্পায়ারকে জায়গা দিতে আগ্রহী নন। যারা বিবেকের তাড়নায় রেফারি, আম্পায়ার বা ফায়ার ফাইটার হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাইছেন, তাদের কখনো গুপ্ত জামায়াত আবার কখনো বিএনপির দালাল আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

আসল বিষয় হলো, ৫ আগস্টের আগে যারা শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্রন্টে একসঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন, তারা আজ একে অপরের মুখোমুখি। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে, বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপির মধ্যকার বর্তমান তিক্ততা আগের আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াতের তিক্ততার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এই তিক্ততাকে কাজে লাগাতে পারে জুলাই অভ্যুত্থানের মূল প্রতিপক্ষ শক্তি।

সরকারের বয়স ৩৬ দিন না হলেও, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকার পতনের জন্য ৩৬ ঘণ্টার আলটিমেটাম উচ্চারণ করা হচ্ছে। কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে এবং আমাদের গন্তব্য কোন দিকে—ইসলামের ইতিহাসের এক বেদনাদায়ক ঘটনা আমাদের তা বলে দিতে পারে। উভয় পক্ষকে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা-ভাবনার অনুরোধ জানাচ্ছি।

সরকারের বাইরে থেকে অনেক সমালোচনা সহজ; কিন্তু ভেতরের বাস্তবতা ভিন্ন। এনসিপির নাহিদ এবং আসিফ সরকারে ছিলেন। তখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য তেমন কোনো পদক্ষেপ তাদের চোখে পড়েনি। বিএনপি এবং জামায়াতসহ অন্যান্য দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলেও এনসিপি তখন করেনি। সেই তারাই এখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির ভিন্ন পদ্ধতি সহ্য করতে পারছেন না বা এর জন্য ধৈর্য ধারণ করতে পারছেন না। সরকারও বোধহয় পুরো বিষয়টি সঠিকভাবে সামলাতে পারছে না। এ ব্যাপারে সরকারের একটি অংশের অনভিজ্ঞতা, কারো কারো অতি-আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস বা সন্দেহ দানা বাঁধিয়ে ফেলছে।

বিষয়গুলো নিয়ে যে বিতর্ক ও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে, তা জনগণের কাছে স্পষ্ট না করলে সরকারের জন্য তাৎক্ষণিক বিপদ ডেকে আনতে পারে। টিআইবির ইফতেখারুজ্জামান, আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মতো মানুষদের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো দেখলেই সম্ভবত বোঝা যাবে বাতাস কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। শহিদুল আলম বলেছেন, যদিও আমি জামায়াত-শিবির ঘোরবিরোধী, তবু আমি শিবিরের প্রোগ্রামে এসেছি, কারণ জ…