ঢাকা ১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সীতাকুণ্ডে বিএনপি নেতাদের প্রতিবাদ: মিথ্যা চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর বাজার থেকে শুরু হওয়া এক বিশাল আনন্দ মিছিল পৌরসভা চত্বরে এসে শেষ হয়, যেখানে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিলে নয়টি ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপি, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন, যা পুরো এলাকাকে স্লোগান, ব্যানার এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে উৎসবমুখর করে তোলে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে এই ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।

পথসভায় বক্তারা অভিযোগ করেন যে কিছু অসাধু শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর মদদে এলাকায় দুর্নীতি, জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং বলেন যে অন্যায় কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এছাড়াও, তারা প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সতর্ক করেন যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে সীতাকুণ্ডকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলায় রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি শিল্প-কারখানায় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খেলাধুলার মাঠ উন্নয়ন, আধুনিক বাজার ভবন নির্মাণ, লালদীঘিসহ বড় পুকুরগুলোর সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খননের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

সদস্যসচিব মো. মোরসালিন অভিযোগ করেন যে বিগত সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তবে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে এসব দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর বলেন যে কাজী সালাউদ্দিন ও কাজী মহিউদ্দিন দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে অতীতে ‘সুপার ফাইভ’ পদ্ধতিতে কমিটি গঠন করে দলকে তাদের পারিবারিক সম্পত্তিতে রূপান্তর করা হয়েছিল, যার ফলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন: মাটির নিচে অত্যাধুনিক বাংকার ও টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা

সীতাকুণ্ডে বিএনপি নেতাদের প্রতিবাদ: মিথ্যা চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ১২:৪৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর বাজার থেকে শুরু হওয়া এক বিশাল আনন্দ মিছিল পৌরসভা চত্বরে এসে শেষ হয়, যেখানে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিলে নয়টি ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপি, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন, যা পুরো এলাকাকে স্লোগান, ব্যানার এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে উৎসবমুখর করে তোলে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে এই ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।

পথসভায় বক্তারা অভিযোগ করেন যে কিছু অসাধু শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর মদদে এলাকায় দুর্নীতি, জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এবং বলেন যে অন্যায় কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এছাড়াও, তারা প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সতর্ক করেন যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ডা. কমল কদর বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে সীতাকুণ্ডকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলায় রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি শিল্প-কারখানায় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খেলাধুলার মাঠ উন্নয়ন, আধুনিক বাজার ভবন নির্মাণ, লালদীঘিসহ বড় পুকুরগুলোর সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খননের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

সদস্যসচিব মো. মোরসালিন অভিযোগ করেন যে বিগত সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তবে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে এসব দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর বলেন যে কাজী সালাউদ্দিন ও কাজী মহিউদ্দিন দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে অতীতে ‘সুপার ফাইভ’ পদ্ধতিতে কমিটি গঠন করে দলকে তাদের পারিবারিক সম্পত্তিতে রূপান্তর করা হয়েছিল, যার ফলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।