মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলাতেও। ডিজেলের অভাবে সেচ কাজ ব্যাহত হওয়ায় কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন। প্রতিদিন তেলের আশায় কৃষকরা খালি ড্রাম হাতে পাম্প ও ডিলারদের কাছে ছুটছেন, কিন্তু চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। পুরুষের পাশাপাশি গৃহবধূ নারীরাও ডিজেল সংগ্রহের জন্য তেলের পাম্পে ভিড় করছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সদরপুর ফিলিং স্টেশনে ডিজেল আসার খবর শুনে ভোররাত থেকেই কৃষকরা হাতে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও খালি বোতল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারীকেও ডিজেল সংগ্রহের আশায় লাইনে দেখা গেছে।
ডিজেল নিতে আসা কৃষক মো. তৈয়ব মাতুব্বর জানান, ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু দুপুর ২টা বাজলেও এখনও তেল পাননি। তিনি বলেন, ‘আজ যেভাবেই হোক ডিজেল নিতে হবে। আমার ধানের জমিতে একফোঁটা পানি নেই, মাটি ফেটে গেছে। ডিজেল না পেলে খুব ক্ষতি হবে। যেভাবেই হোক সেচ দিতে হবে।’
ভাষানচর ইউনিয়নের গৃহবধূ রিনা জানান, সকাল ৮টায় লাইনে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু দুপুর ২টা বেজেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। আমার স্বামী আসলে তার একদিনের কামলা (কাজ) নষ্ট হবে, তাই আমি এসেছি ডিজেল নিতে।’ আয়েশা বেগম নামে আরেক গৃহবধূ জানান, তার স্বামী জমিতে কাজ করে, তাই তিনি ভোরবেলা এসেছেন। ডিজেল না পেলে বোরো ধানের ফলন হবে না। স্বামী গতকাল এসেও তেল নিতে পারেননি।
চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষক তোতা মিয়া বলেন, সকাল ৭টায় এসেছেন। তিনি ২ বিঘা পাটের চাষ করেছেন এবং পানি দিতে না পারলে চারা নষ্ট হয়ে যাবে। গত কয়েকদিন ধরে ডিজেলের জন্য ঘুরছেন, কিন্তু আজ ডিজেল আসার খবরে ভোর থেকেই লাইনে আছেন।
সদরপুর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম জানান, তারা যতটুকু ডিজেল পাচ্ছেন, তার সবটাই কৃষকদের দিচ্ছেন। ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। পুলিশের সাহায্য নিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।
রিপোর্টারের নাম 























