ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

র‌্যাবের ‘কসাই’ জিয়াউলের পক্ষে ডিজিটাল প্রচারণা: ভুক্তভোগী ও জনমনে তোলপাড়

এক সময়ের প্রভাবশালী প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) কাঠগড়ায়। তার বিরুদ্ধে শত শত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পক্ষে ‘ইমেজ হোয়াইটওয়াশ’ বা ভাবমূর্তি পরিষ্কারের অপচেষ্টা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গুমের শিকার ও ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গুমের শিকার ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, ‘ইটসমিস্বাধীন’ (ItsMeSwadhin) এর মতো ফেসবুক প্রোফাইল এবং একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক ‘হাফ-ট্রুথ’ (অর্ধসত্য) কৌশলের আশ্রয় নিয়ে জিয়াউল আহসানের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

গুম হওয়া ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী আমার দেশকে জানান, ‘জিয়াউল আহসানের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে ‘ইটসমিস্বাধীন’ ফেসবুক আইডি থেকে গত কয়েক মাসে একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে একই আইডি থেকে ‘নো ভোট-নো ভোট’ প্রচারও করা হয়েছিল। শেখ ফারদিন এহসান স্বাধীন নামে এই তরুণ জিয়াউল আহসানকে চাচা পরিচয় দিয়ে তার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে এবং নিজেকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবেও দাবি করছে। ‘দিস ইজ স্বাধীন’ (this_is_swadhin) নামে ইনস্টাগ্রামেও সে এই ইস্যুতে সরব রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দাখিলকৃত প্রসিকিউশনের চার্জশিট ও তদন্ত প্রতিবেদনে র‌্যাবের ‘কসাই’ হিসেবে পরিচিত জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে লোমহর্ষক অনেক তথ্য উঠে এসেছে। ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের পূবাইলে তার সরাসরি কমান্ডে সজলসহ তিনজনকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে এই অপারেশন তদারকি করেছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে। এছাড়া, ২০১০-২০১৩ সালের মধ্যে তথাকথিত ‘জলদস্যু দমন’-এর নামে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকায় নজরুল ও মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার অভিযুক্ত প্রধান ঘাতক মেজর আরিফ হোসেনও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন যে, তিনি তৎকালীন র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার প্রধান জিয়াউল আহসানের নির্দেশেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।

জিয়াউল আহসানের ক্ষমতার সবচেয়ে বড় উৎস ছিল এনটিএমসি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী: ১৪ স্থানে ব্যারিকেড ও কঠোর বিধিনিষেধ

র‌্যাবের ‘কসাই’ জিয়াউলের পক্ষে ডিজিটাল প্রচারণা: ভুক্তভোগী ও জনমনে তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

এক সময়ের প্রভাবশালী প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) কাঠগড়ায়। তার বিরুদ্ধে শত শত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পক্ষে ‘ইমেজ হোয়াইটওয়াশ’ বা ভাবমূর্তি পরিষ্কারের অপচেষ্টা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গুমের শিকার ও ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গুমের শিকার ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে, ‘ইটসমিস্বাধীন’ (ItsMeSwadhin) এর মতো ফেসবুক প্রোফাইল এবং একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক ‘হাফ-ট্রুথ’ (অর্ধসত্য) কৌশলের আশ্রয় নিয়ে জিয়াউল আহসানের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

গুম হওয়া ভুক্তভোগী প্রকৌশলী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী আমার দেশকে জানান, ‘জিয়াউল আহসানের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে ‘ইটসমিস্বাধীন’ ফেসবুক আইডি থেকে গত কয়েক মাসে একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে একই আইডি থেকে ‘নো ভোট-নো ভোট’ প্রচারও করা হয়েছিল। শেখ ফারদিন এহসান স্বাধীন নামে এই তরুণ জিয়াউল আহসানকে চাচা পরিচয় দিয়ে তার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে এবং নিজেকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবেও দাবি করছে। ‘দিস ইজ স্বাধীন’ (this_is_swadhin) নামে ইনস্টাগ্রামেও সে এই ইস্যুতে সরব রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দাখিলকৃত প্রসিকিউশনের চার্জশিট ও তদন্ত প্রতিবেদনে র‌্যাবের ‘কসাই’ হিসেবে পরিচিত জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে লোমহর্ষক অনেক তথ্য উঠে এসেছে। ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের পূবাইলে তার সরাসরি কমান্ডে সজলসহ তিনজনকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে এই অপারেশন তদারকি করেছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে। এছাড়া, ২০১০-২০১৩ সালের মধ্যে তথাকথিত ‘জলদস্যু দমন’-এর নামে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকায় নজরুল ও মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার অভিযুক্ত প্রধান ঘাতক মেজর আরিফ হোসেনও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন যে, তিনি তৎকালীন র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার প্রধান জিয়াউল আহসানের নির্দেশেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।

জিয়াউল আহসানের ক্ষমতার সবচেয়ে বড় উৎস ছিল এনটিএমসি।