ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

জুলাই বিপ্লবে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান-আনিসুল হকের বিরুদ্ধে শহীদ শাহরিয়ারের বাবার জবানবন্দি

জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ষষ্ঠতম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ শেখ শাহরিয়ারের বাবা আব্দুল মতিন।

রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার মুখে তিনি বলেন, ‘শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন আমার একমাত্র ছেলে। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার বেঁচে থাকার আগ্রহ নেই। আমার পরিবারটাকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।’

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে শহীদ শাহরিয়ারের বয়স ছিল ১৮ বছর ৮ মাস ১৯ দিন। সে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরীক্ষার ফাঁকে মিরপুরের খালার বাসায় যায়। এরপর খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেয়। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ গোল চত্বরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তার সহযোদ্ধারা তাকে প্রথমে মিরপুর আলোক হাসপাতালে এবং পরে আজমত হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে ওইদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমি তখন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। মোবাইলে আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে অনেক বাধা পেরিয়ে ঢাকায় আসি। আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে ছেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে দেখতে পাই।’

আব্দুল মতিন জবানবন্দিতে আরও বলেন, ‘কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, আমার ছেলের চোখের উপরে কপালে গুলি লেগে মগজের ভেতরে ঢুকেছে। গুলি বের করা যায়নি। ডাক্তাররা অপারেশন করতে সাহস পাননি। আমার অনুরোধে তারা সিটিস্ক্যান করেন। সিটিস্ক্যানের রিপোর্ট দেখে ডাক্তাররা জানান, রোগী যে অবস্থায় আছে, তাতে অপারেশন করা নিরাপদ হবে না। আমি ডাক্তারকে অনুরোধ করি আমি অন্য জায়গায় চিকিৎসা করাবো, তাকে রিলিজ করে দিতে। তারা রিলিজ করেননি। ২০ জুলাই দুপুর ২টা ৬ মিনিটে আমার ছেলেকে কর্তব্যরত ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন।’

‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অন্যদের কুপরামর্শে আমার ছেলেসহ সারাদেশে প্রায় ১৪০০ আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি চাই।’

এদিন দুজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী সুমি আক্তার।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘আমার স্…’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবল বিশ্বকাপের লড়াই শুরু আজ, চোখ এখন ৪৮ দেশের মহাযুদ্ধে

জুলাই বিপ্লবে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান-আনিসুল হকের বিরুদ্ধে শহীদ শাহরিয়ারের বাবার জবানবন্দি

আপডেট সময় : ০৭:০৮:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ষষ্ঠতম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ শেখ শাহরিয়ারের বাবা আব্দুল মতিন।

রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার মুখে তিনি বলেন, ‘শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন আমার একমাত্র ছেলে। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার বেঁচে থাকার আগ্রহ নেই। আমার পরিবারটাকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।’

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে শহীদ শাহরিয়ারের বয়স ছিল ১৮ বছর ৮ মাস ১৯ দিন। সে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরীক্ষার ফাঁকে মিরপুরের খালার বাসায় যায়। এরপর খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেয়। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ গোল চত্বরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তার সহযোদ্ধারা তাকে প্রথমে মিরপুর আলোক হাসপাতালে এবং পরে আজমত হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে ওইদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমি তখন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। মোবাইলে আমার ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে অনেক বাধা পেরিয়ে ঢাকায় আসি। আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে ছেলেকে মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে দেখতে পাই।’

আব্দুল মতিন জবানবন্দিতে আরও বলেন, ‘কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, আমার ছেলের চোখের উপরে কপালে গুলি লেগে মগজের ভেতরে ঢুকেছে। গুলি বের করা যায়নি। ডাক্তাররা অপারেশন করতে সাহস পাননি। আমার অনুরোধে তারা সিটিস্ক্যান করেন। সিটিস্ক্যানের রিপোর্ট দেখে ডাক্তাররা জানান, রোগী যে অবস্থায় আছে, তাতে অপারেশন করা নিরাপদ হবে না। আমি ডাক্তারকে অনুরোধ করি আমি অন্য জায়গায় চিকিৎসা করাবো, তাকে রিলিজ করে দিতে। তারা রিলিজ করেননি। ২০ জুলাই দুপুর ২টা ৬ মিনিটে আমার ছেলেকে কর্তব্যরত ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন।’

‘তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অন্যদের কুপরামর্শে আমার ছেলেসহ সারাদেশে প্রায় ১৪০০ আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি চাই।’

এদিন দুজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী সুমি আক্তার।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘আমার স্…’