ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

পুলিশ সংস্কারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সরকার পুলিশ বাহিনীকে সংস্কারের জন্য কাজ করছে, তবে এই প্রক্রিয়াটি রাতারাতি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার ধারাবাহিক ও পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। পুলিশের পুনর্গঠন, সংস্কার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের সহযোগিতা করতে পারে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বেইলি রোডে মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনডিপির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষের মধ্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পুলিশ সংস্কার, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি পুলিশ সংস্কারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে ইউএনডিপির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি গত ১৫-১৭ বছর ধরে কমিশনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে।

তিনি আরও জানান, মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়নেও ইউএনডিপি সহায়তা করেছে এবং এতে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই অধ্যাদেশের সঙ্গে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটিও আরও পর্যালোচনার পর জাতীয় সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অধ্যাদেশটির কিছু সংজ্ঞা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গুমের প্রকৃত নির্দেশদাতাকে শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে। এ সময় তিনি তার ব্যক্তিগত গুমকালীন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-কে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত কেবল তদন্তকারী কর্মকর্তাই করতে পারেন, এপিবিএন কোনো তদন্তকারী সংস্থা নয়। তবে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ সোনালী দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ আনোয়ারুল হক এবং ইউএ…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফুটবল বিশ্বকাপের লড়াই শুরু আজ, চোখ এখন ৪৮ দেশের মহাযুদ্ধে

পুলিশ সংস্কারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে সময় লাগবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:০৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সরকার পুলিশ বাহিনীকে সংস্কারের জন্য কাজ করছে, তবে এই প্রক্রিয়াটি রাতারাতি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকার ধারাবাহিক ও পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নে বিশ্বাসী। পুলিশের পুনর্গঠন, সংস্কার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের সহযোগিতা করতে পারে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বেইলি রোডে মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনডিপির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষের মধ্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পুলিশ সংস্কার, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি পুলিশ সংস্কারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে ইউএনডিপির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি গত ১৫-১৭ বছর ধরে কমিশনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে।

তিনি আরও জানান, মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশের খসড়া প্রণয়নেও ইউএনডিপি সহায়তা করেছে এবং এতে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই অধ্যাদেশের সঙ্গে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটিও আরও পর্যালোচনার পর জাতীয় সংসদে বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অধ্যাদেশটির কিছু সংজ্ঞা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গুমের প্রকৃত নির্দেশদাতাকে শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে। এ সময় তিনি তার ব্যক্তিগত গুমকালীন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-কে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত কেবল তদন্তকারী কর্মকর্তাই করতে পারেন, এপিবিএন কোনো তদন্তকারী সংস্থা নয়। তবে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ সোনালী দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ আনোয়ারুল হক এবং ইউএ…