ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মিরসরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী বলিখেলায় যৌথ চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ ও মোশাররফ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের উপকূলীয় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বলিখেলা দেখতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। দীর্ঘদিন পর গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই খেলাকে ঘিরে টেকেরহাটে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পুরাতন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মাঠে এই খেলার আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক বলি এতে অংশ নেন। হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে মাঠ ও এর আশপাশ এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের ভিড়ে মুখরিত ছিল পুরো আয়োজনস্থল।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত লড়াই হয় কুমিল্লার আলোচিত বলি ‘বাঘা শরীফ’ এবং নোয়াখালীর মোশাররফ হোসেনের মধ্যে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বিচারকদের সিদ্ধান্তে উভয়কেই যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। প্রথমদিকে এই সিদ্ধান্তে বাঘা শরীফ আপত্তি জানালেও পরে আয়োজক কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেন। পরবর্তীতে উভয়কেই সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এবারের আসরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশাল পুরস্কার তালিকা। মোট ১০১টি পুরস্কারের মধ্যে ছিল ফ্রিজ, টেলিভিশন, বাইসাইকেল, সিলিং ফ্যান, গ্যাসের চুলাসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। পুরস্কার পেয়ে বিজয়ীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা থেকে আসা বলি শাহজালাল জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই খেলায় অংশ নিচ্ছেন এবং তার শিষ্যরাও দেশের বিভিন্ন জায়গায় খেলে। এখানে এসে পুরস্কার জিততে পেরে তিনি আনন্দিত। প্রবাস ফেরত বাদশা বলি বলেন, দেশে ফিরে আবার মাঠে নামতে পেরে তার অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে। প্রবীণ বলি জামাল উদ্দিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসময় এই খেলাই ছিল গ্রামের প্রধান বিনোদন এবং আজ আবার সেই পরিবেশ ফিরে এসেছে।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এটি তাদের অন্যতম বড় আয়োজন। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। এবারের খেলায় অংশগ্রহণকারী সকল বলির উপস্থিতি তাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

খেলার আমন্ত্রিত অতিথি মাসুকুল আলম সোহান বলেন, এমন আয়োজন এখন খুব কম দেখা যায় এবং এত মানুষের উপস্থিতি সত্যিই চোখে পড়ার মতো। তিনি আরও বলেন, যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে হলে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মনজুরুল হক মঞ্জু বলেন, বলিখেলা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ এবং প্রতিযোগীদের শক্তি ও কৌশলের লড়াই তিনি খুব উপভোগ করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের মহোৎসব

মিরসরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী বলিখেলায় যৌথ চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ ও মোশাররফ

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের উপকূলীয় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বলিখেলা দেখতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। দীর্ঘদিন পর গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই খেলাকে ঘিরে টেকেরহাটে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে পুরাতন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মাঠে এই খেলার আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক বলি এতে অংশ নেন। হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে মাঠ ও এর আশপাশ এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের ভিড়ে মুখরিত ছিল পুরো আয়োজনস্থল।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত লড়াই হয় কুমিল্লার আলোচিত বলি ‘বাঘা শরীফ’ এবং নোয়াখালীর মোশাররফ হোসেনের মধ্যে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বিচারকদের সিদ্ধান্তে উভয়কেই যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। প্রথমদিকে এই সিদ্ধান্তে বাঘা শরীফ আপত্তি জানালেও পরে আয়োজক কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নেন। পরবর্তীতে উভয়কেই সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এবারের আসরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশাল পুরস্কার তালিকা। মোট ১০১টি পুরস্কারের মধ্যে ছিল ফ্রিজ, টেলিভিশন, বাইসাইকেল, সিলিং ফ্যান, গ্যাসের চুলাসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। পুরস্কার পেয়ে বিজয়ীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা থেকে আসা বলি শাহজালাল জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই খেলায় অংশ নিচ্ছেন এবং তার শিষ্যরাও দেশের বিভিন্ন জায়গায় খেলে। এখানে এসে পুরস্কার জিততে পেরে তিনি আনন্দিত। প্রবাস ফেরত বাদশা বলি বলেন, দেশে ফিরে আবার মাঠে নামতে পেরে তার অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে। প্রবীণ বলি জামাল উদ্দিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, একসময় এই খেলাই ছিল গ্রামের প্রধান বিনোদন এবং আজ আবার সেই পরিবেশ ফিরে এসেছে।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, এটি তাদের অন্যতম বড় আয়োজন। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। এবারের খেলায় অংশগ্রহণকারী সকল বলির উপস্থিতি তাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

খেলার আমন্ত্রিত অতিথি মাসুকুল আলম সোহান বলেন, এমন আয়োজন এখন খুব কম দেখা যায় এবং এত মানুষের উপস্থিতি সত্যিই চোখে পড়ার মতো। তিনি আরও বলেন, যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে হলে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মনজুরুল হক মঞ্জু বলেন, বলিখেলা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ এবং প্রতিযোগীদের শক্তি ও কৌশলের লড়াই তিনি খুব উপভোগ করেছেন।