ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকট ও হামের প্রাদুর্ভাব: স্কুল পরিচালনা নিয়ে আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দেশ

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশ এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায়। সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যাংকের সময়সূচি ইতোমধ্যে কমিয়ে আনা হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। একদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের চাপ, অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে হামের ভয়াবহ প্রকোপ—এই দুই সংকটকে মাথায় রেখেই পাঠদান পদ্ধতি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা এবং শপিংমল সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের বিষয়টি বিবেচনাধীন থাকলেও আজ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

তবে অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ১ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অধিকাংশ শিক্ষক ও অভিভাবক অনলাইন ক্লাসের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের ফলে শিশুদের মধ্যে মোবাইল আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় বেড়েছে। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী জানিয়েছেন, অনলাইন ক্লাস শিশুদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে; এর পরিবর্তে বড় স্কুলগুলোতে নিজস্ব স্কুলবাস চালু করা যেতে পারে। অন্যদিকে, শিক্ষক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অনলাইন ক্লাসের বিকল্প হিসেবে ‘মর্নিং ক্লাস’ বা ক্লাসের সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী মনে করেন, এতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও সরাসরি পাঠদানের সুযোগ পাবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৪৭৯ জন, যার মধ্যে ৪ হাজার ৮২৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে মোট নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। এছাড়া সন্দেহজনক হামে আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ৮২৬ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও পরিকল্পনা ছাড়া স্কুল পরিচালনা করলে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর জানা যাবে শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার ভবিষ্যৎ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতপার্থক্য

জ্বালানি সংকট ও হামের প্রাদুর্ভাব: স্কুল পরিচালনা নিয়ে আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দেশ

আপডেট সময় : ১২:১২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশ এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায়। সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যাংকের সময়সূচি ইতোমধ্যে কমিয়ে আনা হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। একদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের চাপ, অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে হামের ভয়াবহ প্রকোপ—এই দুই সংকটকে মাথায় রেখেই পাঠদান পদ্ধতি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা এবং শপিংমল সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসের বিষয়টি বিবেচনাধীন থাকলেও আজ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

তবে অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ১ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় অধিকাংশ শিক্ষক ও অভিভাবক অনলাইন ক্লাসের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের ফলে শিশুদের মধ্যে মোবাইল আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় বেড়েছে। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী জানিয়েছেন, অনলাইন ক্লাস শিশুদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে; এর পরিবর্তে বড় স্কুলগুলোতে নিজস্ব স্কুলবাস চালু করা যেতে পারে। অন্যদিকে, শিক্ষক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অনলাইন ক্লাসের বিকল্প হিসেবে ‘মর্নিং ক্লাস’ বা ক্লাসের সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী মনে করেন, এতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও সরাসরি পাঠদানের সুযোগ পাবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৪৭৯ জন, যার মধ্যে ৪ হাজার ৮২৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে মোট নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। এছাড়া সন্দেহজনক হামে আরও ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ৮২৬ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও পরিকল্পনা ছাড়া স্কুল পরিচালনা করলে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর জানা যাবে শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার ভবিষ্যৎ।