যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এক ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৫৩ শতাংশ কমেছে। শুধু রপ্তানি আয়ই নয়, ইউনিট প্রতি গড় মূল্য এবং রপ্তানির পরিমাণেও হ্রাস দেখা গেছে। ওটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে ইউনিট প্রতি দাম ২.৪৭ শতাংশ এবং রপ্তানির ভলিউম ৬.২১ শতাংশ কমেছে। ফলে, মূল্য ও পরিমাণ উভয় সূচকের পতনের কারণে মোট রপ্তানি আয় সংকুচিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানির সামগ্রিক প্রবণতাই বর্তমানে নিম্নমুখী। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে দেশটিতে সামগ্রিকভাবে পোশাক আমদানি ১৩.৪৭ শতাংশ কমেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রপ্তানি হ্রাস কোনো একক ঘটনা নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী চাহিদা সংকোচনেরই প্রতিফলন।
তবে, উদ্বেগের বিষয় হলো আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের সাফল্য। একই সময়ে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের পোশাক রপ্তানি ২.৮৬ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে কম্বোডিয়া, যেখানে তাদের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৮.৪৩ শতাংশে। এর ফলে বাংলাদেশের জন্য বাজার হিস্যা ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতিযোগী দেশগুলো তুলনামূলকভাবে দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়ন এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, কিছু দেশে শ্রম নীতি এবং বাণিজ্য সুবিধা রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
অন্যদিকে, চীনের রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে উল্লেখিত সময়ে চীনের রপ্তানি আয় ৫৭.৬৫ শতাংশ কমেছে। চীনা পণ্যের অংশ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের জন্য একটি বিকল্প উৎস হিসেবে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো যুক্তরাষ্ট্র বাজারেই পোশাক আমদানিতে মন্দা চলছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের উপরও পড়ছে।
রিপোর্টারের নাম 























