হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার গুণই গ্রামে সৎ মায়ের নির্যাতন সইতে না পেরে এক সঙ্গে দুই বোন কীটনাশক বিষপান করেছে। এ ঘটনায় বড় বোন সোনিয়া আক্তার (২০) মারা গেছেন এবং ছোট বোন জনি আক্তার (১৬) আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উপজেলার ৮নং খাগাউড়া ইউনিয়নের গুণই গ্রামে দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুণই গ্রামের চান মিয়ার প্রথম স্ত্রীর দুই কন্যা সোনিয়া ও জনি দীর্ঘদিন ধরে তাদের সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল। অসহ্য যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে তারা কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বিষপানের পর দুই বোন ছটফট করতে থাকলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তাদের দ্রুত হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোনিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছোট বোন জনি আক্তারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সৎ মা আত্মগোপনে রয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, ওই দুই বোনের মা বেশ কিছুদিন আগে বিষপানে আত্মহত্যা করেছিলেন। এরপর চান মিয়া পুনরায় বিয়ে করেন। নতুন স্ত্রীই তাদের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন করত বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই ক্ষোভে দুই বোন এই চরম পদক্ষেপ নেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরীফ আহমেদ জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সোনিয়ার দেহের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























