ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

রেমিট্যান্সে রেকর্ড গড়লেও রপ্তানি ধসে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুই উৎস—রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) গত এক বছরে সম্পূর্ণ ভিন্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে প্রবাসীরা একক মাসের আয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেও, রপ্তানি খাতের ভয়াবহ পতনে সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত এক বছরে রেমিট্যান্স প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বাড়লেও রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে সম্মিলিতভাবে দেশে আসা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার কমে ৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানির এই বড় ধস প্রবাসী আয়ের রেকর্ড সাফল্যকেও ম্লান করে দিয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের মার্চে পণ্য রপ্তানি ১৮ শতাংশ কমে ৩৪৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত আট মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে; এক বছরের ব্যবধানে এই খাতের আয় ৩.৪৫ বিলিয়ন থেকে কমে ২.৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক আরোপ এবং বৈশ্বিক চাহিদাহ্রাসের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের বিশ্ববাজারে ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে দিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রপ্তানি গন্তব্য দেশগুলোতে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া এই সংকটের অন্যতম কারণ। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও রপ্তানি আয়ের এই দীর্ঘমেয়াদী পতন দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলারের সংস্থান করতে গিয়ে অর্থনীতি বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন সরাতে ন্যাটোর সহায়তা পাবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

রেমিট্যান্সে রেকর্ড গড়লেও রপ্তানি ধসে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি

আপডেট সময় : ১০:০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুই উৎস—রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) গত এক বছরে সম্পূর্ণ ভিন্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়ে প্রবাসীরা একক মাসের আয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেও, রপ্তানি খাতের ভয়াবহ পতনে সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত এক বছরে রেমিট্যান্স প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বাড়লেও রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে সম্মিলিতভাবে দেশে আসা বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার কমে ৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানির এই বড় ধস প্রবাসী আয়ের রেকর্ড সাফল্যকেও ম্লান করে দিয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের মার্চে পণ্য রপ্তানি ১৮ শতাংশ কমে ৩৪৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত আট মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে; এক বছরের ব্যবধানে এই খাতের আয় ৩.৪৫ বিলিয়ন থেকে কমে ২.৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক আরোপ এবং বৈশ্বিক চাহিদাহ্রাসের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের বিশ্ববাজারে ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে দিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রপ্তানি গন্তব্য দেশগুলোতে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া এই সংকটের অন্যতম কারণ। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও রপ্তানি আয়ের এই দীর্ঘমেয়াদী পতন দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলারের সংস্থান করতে গিয়ে অর্থনীতি বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।