ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

অর্থনীতিতে ধীরগতির সতর্কবার্তা বিশ্ব ব্যাংকের

বিশ্ব ব্যাংক মনে করছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস সরকারের ঘোষিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ পয়েন্ট কম।

সংস্থাটির সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল থাকতে পারে। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে, বিদায়ী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে, যা সরকারি সাময়িক হিসাবের চেয়েও কম।

বিশ্ব ব্যাংক জানায়, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগে ধীরগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং চলমান ইরান সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজার, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।

মাত্র ছয় মাস আগে প্রকাশিত পূর্বাভাসেও বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলক আশাবাদী ছিল। জানুয়ারিতে তারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছিল। কিন্তু নতুন বাস্তবতায় সেই পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।

এদিকে সরকার বলছে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব অর্থনীতিও এখন চাপে। বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা করোনা মহামারির পর সর্বনিম্ন। ইরান সংকট, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতেও ধীরগতির আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৬ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে, যেখানে ২০২৫ সালে ছিল ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ভারতের প্রবৃদ্ধিও ৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হলে প্রবৃদ্ধির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: ‘দেশ বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না’, আশ্বাস উপদেষ্টার

অর্থনীতিতে ধীরগতির সতর্কবার্তা বিশ্ব ব্যাংকের

আপডেট সময় : ০২:১৭:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বিশ্ব ব্যাংক মনে করছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস সরকারের ঘোষিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ পয়েন্ট কম।

সংস্থাটির সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল থাকতে পারে। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে, বিদায়ী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে, যা সরকারি সাময়িক হিসাবের চেয়েও কম।

বিশ্ব ব্যাংক জানায়, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগে ধীরগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং চলমান ইরান সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজার, বৈদেশিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।

মাত্র ছয় মাস আগে প্রকাশিত পূর্বাভাসেও বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের জন্য তুলনামূলক আশাবাদী ছিল। জানুয়ারিতে তারা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছিল। কিন্তু নতুন বাস্তবতায় সেই পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে।

এদিকে সরকার বলছে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না।

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব অর্থনীতিও এখন চাপে। বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা করোনা মহামারির পর সর্বনিম্ন। ইরান সংকট, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধীরগতি এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতেও ধীরগতির আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৬ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে, যেখানে ২০২৫ সালে ছিল ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ভারতের প্রবৃদ্ধিও ৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হলে প্রবৃদ্ধির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।