আকাশ কালো করে আসছে, রেডিও-টিভিতে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস। এমন সময়ে জামালপুরের বকশীগঞ্জের আবুরালী নিজের গরু ‘লালচান’কে নিয়ে দুশ্চিন্তায়। প্রতি বছর একটি করে গরু পোষেন তিনি, যা কোরবানির ঈদে বিক্রি করে সংসার চালান। গতবার কোরবানির আগে গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় দুদিন মুখে কিছু দেননি তিনি। এবার তার স্ত্রী মরিয়ম নিজের সব গয়না বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে একটি লাল রঙের গরু কিনেছেন, যার নাম রাখা হয়েছে লালচান। আবুরালীর কাছে লালচান যেন তার দ্বিতীয় ছেলে, প্রথম ছেলে সুজনের পাশাপাশি।
তবে মরিয়মের মনে সবসময়ই দুশ্চিন্তা। তিনি আবুরালীকে মনে করিয়ে দেন যে, ভালো দাম পেলে গরুটিকে বিক্রি করে দিতে হবে, কারণ তাদের অনেক ধারদেনা শোধ করতে হবে। এই কথা শুনে আবুরালীর মন খারাপ হয়ে যায়। ক্লাস ফাইভের ছাত্র সুজনও তার প্রিয় লালচানকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ভেবে কষ্ট পায়। বাবা-ছেলের মন খারাপ দেখে মরিয়ম তাদের জন্য কচুশাক আর মসুর ডাল দিয়ে ভাত বেড়ে দেন।
ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে গোয়ালঘরের টিনের চাল উড়ে গেলেও আবুরালী লালচানকে নিয়ে ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নেন। পরিবারের সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকে। প্রতিবেশী রহমত মিয়াও আবুরালীকে গরু বিক্রির তাগাদা দেন, যাতে ঝড়-বৃষ্টির সময় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে এবং আগের গরুর মতো সব শেষ হয়ে না যায়। আবুরালী আগের ঘটনার কথা মনে করে কেঁপে ওঠেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে পরশু ফুলবাড়ির হাটে লালচানকে বিক্রি করে দেবেন, এমনকি বেশি লাভের আশা না থাকলেও। তিনি লালচানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখেন, কারণ এই গরুটিই তাদের একমাত্র সম্বল।
রিপোর্টারের নাম 
























