ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বসন্তের আগমন ও বিদায়ের বার্তা: প্রকৃতির পালাবদলের মাঝে পরকালের শিক্ষা

শীতের নীরবতা ভেঙে বাতাসে বইছে বসন্তের দোলা। চারিদিকে রঙিন ফুলের সমারোহ এবং দক্ষিণের বাতাস জানান দিচ্ছে বসন্তের দাপুটে উপস্থিতি। চৈত্রের শেষ প্রান্তে এসে গ্রীষ্মের আগুনের আঁচ গায়ে লাগতে শুরু করেছে। বসন্তের নয়ন জুড়ানো প্রকৃতির উৎসবে শামিল হতে কে না চায়! বসন্তের দ্বিতীয় পক্ষে সপরিবারে ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে গিয়েছিলাম বসন্তের রঙ গায়ে মাখতে। শুকনো নদীর গুদারা ঘাটে পৌঁছেই টের পেলাম প্রকৃতির নতুন সাজ। নৌকাযোগে মরা নদী পার হতেই ওপারের ঘাটে অভ্যর্থনা জানাল রক্তলাল শিমুল। শিমুলের এই রক্তরূপ চোখে মায়াঞ্জন ছড়িয়ে দিল। গ্রামের মেঠোপথ ধরে যত সামনে চলি, ততই প্রতিটি পদক্ষেপে কানে আসে ঝরাপাতার মর্মর ধ্বনি। একদিকে পুরোনোকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে নতুনের আগমনবার্তা চারদিকে। কবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায়—

পুরোনো বিরহ হানিছে, নবীন মিলন আনিছে,

নবীন বসন্ত আইল নবীন জীবন ফুটাতে।

আমার ভাড়া বাসার সামনের তুলনামূলক নিরিবিলি পথটিও ফাল্গুনজুড়ে ছেয়ে ছিল ঝরাপাতায়। পা ফেলতেই মর্মর ধ্বনি কানকে সচকিত করেছে। প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার পথে রাজধানীর বনানীর পথে পথেও চোখে পড়েছে ঝরাপাতার মিছিল। চৈত্রের দ্বিতীয়ার্ধে এসে এখন নতুনের আগমনি শোভা। নৌবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের সম্মুখের ঘন সবুজের বেষ্টনী এখন নতুন কিশোর সবুজে আরো সজীব হয়ে উঠেছে। সবুজ বনানীগুলো তরুণ পাতায় চোখে সুখের আবেশ তৈরি করছে।

বসন্তের এই ঝরাপাতার মিছিল আর নতুনের আগমনি স্লোগান কতভাবেই না চিত্রিত হয়েছে কাব্যে ও কথায়। কেবল এর এক সাংকেতিক দিকটি বলা হয়নি—তা হলো পুরোনো ঝরে যাওয়া এবং নতুনের আগমনের শিক্ষা। অন্তরের চোখ মেলে দেখলে গাছের পাতার মতো আমাদের জীবনবৃক্ষেও ঝরে পড়ার গান শোনা যায়। ঈমানের কান খাড়া করলে নতুনের আগমন ধ্বনিতে ওপারের ডাক শোনা যায়।

নতুন-পুরোনো পালাবদলের এই ইতিহাস সর্বজনস্বীকৃত সত্য। শুধু প্রকৃতি নয়, জগৎ-সংসারেও একই নিয়ম। যত সফল ক্যারিয়ারই হোক না কেন, বয়সের চাকা ঘুরতে ঘুরতে একপর্যায়ে চাকরি থেকে অবসর নিতে হয়। এই সেদিন ২০১৫ বিশ্বকাপ ক্রিকেট সমাপ্তিতেও দেখা গেল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সফল অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক গর্বের ট্রফি উন্মোচনের পাশাপাশি ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সর্বকালের সেরা শচীন টেন্ডুলকার ও মহেন্দ্র সিং ধোনি, শ্রীলঙ্কার সর্বকালের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান ও ক্রিকেটের বিস্ময়কর প্রতিভা কুমার সাঙ্গাকারা…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

বসন্তের আগমন ও বিদায়ের বার্তা: প্রকৃতির পালাবদলের মাঝে পরকালের শিক্ষা

আপডেট সময় : ১২:৩০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

শীতের নীরবতা ভেঙে বাতাসে বইছে বসন্তের দোলা। চারিদিকে রঙিন ফুলের সমারোহ এবং দক্ষিণের বাতাস জানান দিচ্ছে বসন্তের দাপুটে উপস্থিতি। চৈত্রের শেষ প্রান্তে এসে গ্রীষ্মের আগুনের আঁচ গায়ে লাগতে শুরু করেছে। বসন্তের নয়ন জুড়ানো প্রকৃতির উৎসবে শামিল হতে কে না চায়! বসন্তের দ্বিতীয় পক্ষে সপরিবারে ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে গিয়েছিলাম বসন্তের রঙ গায়ে মাখতে। শুকনো নদীর গুদারা ঘাটে পৌঁছেই টের পেলাম প্রকৃতির নতুন সাজ। নৌকাযোগে মরা নদী পার হতেই ওপারের ঘাটে অভ্যর্থনা জানাল রক্তলাল শিমুল। শিমুলের এই রক্তরূপ চোখে মায়াঞ্জন ছড়িয়ে দিল। গ্রামের মেঠোপথ ধরে যত সামনে চলি, ততই প্রতিটি পদক্ষেপে কানে আসে ঝরাপাতার মর্মর ধ্বনি। একদিকে পুরোনোকে বিদায়ের সুর, অন্যদিকে নতুনের আগমনবার্তা চারদিকে। কবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায়—

পুরোনো বিরহ হানিছে, নবীন মিলন আনিছে,

নবীন বসন্ত আইল নবীন জীবন ফুটাতে।

আমার ভাড়া বাসার সামনের তুলনামূলক নিরিবিলি পথটিও ফাল্গুনজুড়ে ছেয়ে ছিল ঝরাপাতায়। পা ফেলতেই মর্মর ধ্বনি কানকে সচকিত করেছে। প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার পথে রাজধানীর বনানীর পথে পথেও চোখে পড়েছে ঝরাপাতার মিছিল। চৈত্রের দ্বিতীয়ার্ধে এসে এখন নতুনের আগমনি শোভা। নৌবাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের সম্মুখের ঘন সবুজের বেষ্টনী এখন নতুন কিশোর সবুজে আরো সজীব হয়ে উঠেছে। সবুজ বনানীগুলো তরুণ পাতায় চোখে সুখের আবেশ তৈরি করছে।

বসন্তের এই ঝরাপাতার মিছিল আর নতুনের আগমনি স্লোগান কতভাবেই না চিত্রিত হয়েছে কাব্যে ও কথায়। কেবল এর এক সাংকেতিক দিকটি বলা হয়নি—তা হলো পুরোনো ঝরে যাওয়া এবং নতুনের আগমনের শিক্ষা। অন্তরের চোখ মেলে দেখলে গাছের পাতার মতো আমাদের জীবনবৃক্ষেও ঝরে পড়ার গান শোনা যায়। ঈমানের কান খাড়া করলে নতুনের আগমন ধ্বনিতে ওপারের ডাক শোনা যায়।

নতুন-পুরোনো পালাবদলের এই ইতিহাস সর্বজনস্বীকৃত সত্য। শুধু প্রকৃতি নয়, জগৎ-সংসারেও একই নিয়ম। যত সফল ক্যারিয়ারই হোক না কেন, বয়সের চাকা ঘুরতে ঘুরতে একপর্যায়ে চাকরি থেকে অবসর নিতে হয়। এই সেদিন ২০১৫ বিশ্বকাপ ক্রিকেট সমাপ্তিতেও দেখা গেল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সফল অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক গর্বের ট্রফি উন্মোচনের পাশাপাশি ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সর্বকালের সেরা শচীন টেন্ডুলকার ও মহেন্দ্র সিং ধোনি, শ্রীলঙ্কার সর্বকালের অন্যতম সফল ব্যাটসম্যান ও ক্রিকেটের বিস্ময়কর প্রতিভা কুমার সাঙ্গাকারা…