ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পথে: উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ৩ এপ্রিল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে। জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে নতুন আলোচনায় সংশোধিত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী প্রস্তাব জমা পড়ার পর টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আগামী ৩ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কনসোর্টিয়াম সার্ভিস চার্জ, অপারেশনাল কন্ট্রোল এবং রাজস্ব ভাগাভাগি সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের আর্থিক প্রস্তাব পুনর্বিন্যাস করে ঢাকার উদ্বেগ নিরসন করেছে। এই বিষয়গুলো পূর্ববর্তী আলোচনায় জটিলতা সৃষ্টি করেছিল।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার বেবিচক সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক কারিগরি বৈঠকের পর চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষ মূল্য নির্ধারণ এবং পরিচালন উপাদান নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছে, যা নীতিগত আলোচনার পর্যায় থেকে চূড়ান্ত আলোচনার দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বুধবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে কারিগরি বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকটি আগামী ৩ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং আশা করা হচ্ছে এই বৈঠকেই চুক্তি চূড়ান্ত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. হুমায়ুন কবির, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

বেবিচক সূত্র আশা করছে, এই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি চুক্তি সম্পন্ন হবে। তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজ ৯৯ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হলেও, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এটি এতদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। শিল্প সংশ্লিষ্টরা এই বিলম্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতা ও পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের ফল বলে মনে করছেন, যার ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ অকেজো অবস্থায় রয়ে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পথে: উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ৩ এপ্রিল

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল শীঘ্রই চালু হতে যাচ্ছে। জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে নতুন আলোচনায় সংশোধিত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী প্রস্তাব জমা পড়ার পর টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আগামী ৩ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কনসোর্টিয়াম সার্ভিস চার্জ, অপারেশনাল কন্ট্রোল এবং রাজস্ব ভাগাভাগি সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের আর্থিক প্রস্তাব পুনর্বিন্যাস করে ঢাকার উদ্বেগ নিরসন করেছে। এই বিষয়গুলো পূর্ববর্তী আলোচনায় জটিলতা সৃষ্টি করেছিল।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার বেবিচক সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক কারিগরি বৈঠকের পর চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষ মূল্য নির্ধারণ এবং পরিচালন উপাদান নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছে, যা নীতিগত আলোচনার পর্যায় থেকে চূড়ান্ত আলোচনার দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বুধবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে কারিগরি বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকটি আগামী ৩ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং আশা করা হচ্ছে এই বৈঠকেই চুক্তি চূড়ান্ত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. হুমায়ুন কবির, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

বেবিচক সূত্র আশা করছে, এই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি চুক্তি সম্পন্ন হবে। তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজ ৯৯ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হলেও, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়ায় এটি এতদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। শিল্প সংশ্লিষ্টরা এই বিলম্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতা ও পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের ফল বলে মনে করছেন, যার ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ অকেজো অবস্থায় রয়ে গেছে।