ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

আলেকজান্ডারকে বিতাড়িত করা গঙ্গাঋদ্ধি: রাজধানী কি ছিল ঢাকা?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

প্রাচীন বাংলার এক গৌরবময় অধ্যায় হলো প্রবল প্রতাপশালী গঙ্গাঋদ্ধি রাষ্ট্র। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে তৎকালীন বাংলাদেশ জুড়ে এর সমৃদ্ধ উপস্থিতি ছিল। এই জাতির অদম্য বীরত্ব এতটাই কিংবদন্তি ছিল যে, গ্রিক সেনাপতি আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট পর্যন্ত তাদের ভয়ে সৈন্যসামন্ত নিয়ে পিছু হটে গিয়েছিলেন।

সমসাময়িক গ্রিক ও লাতিন পর্যটক, ভূগোলবিদ ও পণ্ডিতদের লেখায় গঙ্গাঋদ্ধিদের শৌর্যবীর্য ও জ্ঞান-গরিমা সপ্রশংসভাবে বর্ণিত হয়েছে। পণ্ডিত ড. এম.এ আজিজ ও ড. আহমদ আনিসুর রহমানের মতে, খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে আলেকজান্ডারের উপমহাদেশ অভিযানের সময়ও বাংলার অধিবাসীরা শৌর্যবীর্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে শীর্ষস্থানে ছিল। স্ট্রাবো, টলেমি, ভার্জিল এবং মেগাস্থিনিসের ‘তা ইন্ডিকা’ গ্রন্থে এই জাতির বীরত্বের বর্ণনা পাওয়া যায়।

যদিও গ্রিক ও লাতিন লেখকদের গ্রন্থে সরাসরি বঙ্গরাষ্ট্রের নাম পাওয়া যায় না, তবুও অধিকাংশ পণ্ডিত একমত যে, গঙ্গাঋদ্ধিরা ছিল বঙ্গ জনপদের দ্রাবিড় অধিবাসী। তাদের মতে, দ্রাবিড়রা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের লোক ছিল এবং তাদের একটি দল গঙ্গা মোহনায় বসতি স্থাপন করে এক উন্নত সভ্যতা গড়ে তোলে। ‘গঙ্গাঋদ্ধি’ নামটি সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত নয় বলে মনে করা হয়, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই রাজ্যটি আর্য জগতের বাইরে অবস্থিত ছিল।

প্রথম শতকের পাশ্চাত্য দার্শনিক প্লিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গরাজ মগধসহ গোটা আর্যাবর্ত জয় করে পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় একচ্ছত্র সম্রাট হয়েছিলেন। এসব ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে ধারণা করা হয়, গঙ্গাঋদ্ধিই সম্ভবত বাংলার প্রাচীনতম স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল এবং এর ভৌগোলিক সীমা বর্তমান বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এই বিশাল সাম্রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে এখনো গবেষণা চলছে, যেখানে ঢাকার সম্ভাব্য অবস্থান নিয়েও আলোচনা বিদ্যমান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় বন্দুক হামলা, গুলিতে ১ জনের মৃত্যু

আলেকজান্ডারকে বিতাড়িত করা গঙ্গাঋদ্ধি: রাজধানী কি ছিল ঢাকা?

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

প্রাচীন বাংলার এক গৌরবময় অধ্যায় হলো প্রবল প্রতাপশালী গঙ্গাঋদ্ধি রাষ্ট্র। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে তৎকালীন বাংলাদেশ জুড়ে এর সমৃদ্ধ উপস্থিতি ছিল। এই জাতির অদম্য বীরত্ব এতটাই কিংবদন্তি ছিল যে, গ্রিক সেনাপতি আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট পর্যন্ত তাদের ভয়ে সৈন্যসামন্ত নিয়ে পিছু হটে গিয়েছিলেন।

সমসাময়িক গ্রিক ও লাতিন পর্যটক, ভূগোলবিদ ও পণ্ডিতদের লেখায় গঙ্গাঋদ্ধিদের শৌর্যবীর্য ও জ্ঞান-গরিমা সপ্রশংসভাবে বর্ণিত হয়েছে। পণ্ডিত ড. এম.এ আজিজ ও ড. আহমদ আনিসুর রহমানের মতে, খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে আলেকজান্ডারের উপমহাদেশ অভিযানের সময়ও বাংলার অধিবাসীরা শৌর্যবীর্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে শীর্ষস্থানে ছিল। স্ট্রাবো, টলেমি, ভার্জিল এবং মেগাস্থিনিসের ‘তা ইন্ডিকা’ গ্রন্থে এই জাতির বীরত্বের বর্ণনা পাওয়া যায়।

যদিও গ্রিক ও লাতিন লেখকদের গ্রন্থে সরাসরি বঙ্গরাষ্ট্রের নাম পাওয়া যায় না, তবুও অধিকাংশ পণ্ডিত একমত যে, গঙ্গাঋদ্ধিরা ছিল বঙ্গ জনপদের দ্রাবিড় অধিবাসী। তাদের মতে, দ্রাবিড়রা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের লোক ছিল এবং তাদের একটি দল গঙ্গা মোহনায় বসতি স্থাপন করে এক উন্নত সভ্যতা গড়ে তোলে। ‘গঙ্গাঋদ্ধি’ নামটি সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত নয় বলে মনে করা হয়, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই রাজ্যটি আর্য জগতের বাইরে অবস্থিত ছিল।

প্রথম শতকের পাশ্চাত্য দার্শনিক প্লিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গরাজ মগধসহ গোটা আর্যাবর্ত জয় করে পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় একচ্ছত্র সম্রাট হয়েছিলেন। এসব ঐতিহাসিক বিবরণ থেকে ধারণা করা হয়, গঙ্গাঋদ্ধিই সম্ভবত বাংলার প্রাচীনতম স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল এবং এর ভৌগোলিক সীমা বর্তমান বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল। এই বিশাল সাম্রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে এখনো গবেষণা চলছে, যেখানে ঢাকার সম্ভাব্য অবস্থান নিয়েও আলোচনা বিদ্যমান।