ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

মতলবের মেলায় গাঁজা ও জুয়ার আসর: তিন শতাধিক দোকানের অভিযোগ

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত লেংটার ১০৭তম মেলাকে ঘিরে মাদক, জুয়া ও অশ্লীলতা চরম আকার ধারণ করেছে। মেলা এলাকায় তিন শতাধিক গাঁজার দোকান বসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলা এলাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার জুড়ে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছে। মাজারের পশ্চিম-উত্তর পাশে পুকুরপাড় এবং এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজার দোকান বসিয়েছেন পাগল ও ফকির পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা। দিনের বেলায়ও এখানে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছে। রাতে মেলার বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর বসে এবং অশ্লীল গান-বাজনা ও নারী-পুরুষের একযোগে নাচ-গানের আয়োজন করা হয়।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের অভিযোগ, প্রতি বছরই এই মেলাকে কেন্দ্র করে এমন অনিয়ম হয়ে আসছে, কিন্তু কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্কও ঠিকমতো কাজ করছে না, যা যোগাযোগে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

মেলা এলাকার ফকিররা জানিয়েছেন, তারা নিজেরা সেবন করলেও বিক্রি করেন না এবং পুলিশের ভয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা থেকে আসা ভক্তরা জানিয়েছেন যে তারা আধ্যাত্মিক মিলনের জন্য এখানে আসেন, তবে কিছু মানুষের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং প্রশাসনের কঠোর হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, মেলার প্রথম দিন জুয়া ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। জুয়ার টাকা ও মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরের গুরুদাসপুরে কলেজে কাফনের কাপড় পার্সেল, শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক

মতলবের মেলায় গাঁজা ও জুয়ার আসর: তিন শতাধিক দোকানের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:১২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত লেংটার ১০৭তম মেলাকে ঘিরে মাদক, জুয়া ও অশ্লীলতা চরম আকার ধারণ করেছে। মেলা এলাকায় তিন শতাধিক গাঁজার দোকান বসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলা এলাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার জুড়ে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়েছে। মাজারের পশ্চিম-উত্তর পাশে পুকুরপাড় এবং এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে গাঁজার দোকান বসিয়েছেন পাগল ও ফকির পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা। দিনের বেলায়ও এখানে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছে। রাতে মেলার বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর বসে এবং অশ্লীল গান-বাজনা ও নারী-পুরুষের একযোগে নাচ-গানের আয়োজন করা হয়।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের অভিযোগ, প্রতি বছরই এই মেলাকে কেন্দ্র করে এমন অনিয়ম হয়ে আসছে, কিন্তু কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মোবাইল নেটওয়ার্কও ঠিকমতো কাজ করছে না, যা যোগাযোগে ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।

মেলা এলাকার ফকিররা জানিয়েছেন, তারা নিজেরা সেবন করলেও বিক্রি করেন না এবং পুলিশের ভয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা থেকে আসা ভক্তরা জানিয়েছেন যে তারা আধ্যাত্মিক মিলনের জন্য এখানে আসেন, তবে কিছু মানুষের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং প্রশাসনের কঠোর হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, মেলার প্রথম দিন জুয়া ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। জুয়ার টাকা ও মাদকের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।