ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মাইট্রাল রিগারজিটেশন চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি: কম ঝুঁকিপূর্ণ ‘ক্লিপিং’ পদ্ধতি

হৃদযন্ত্রের চারটি প্রধান ভালভের মধ্যে মাইট্রাল ভালভ বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের মধ্যে রক্তপ্রবাহের সঠিক দিক নিশ্চিত করে। কিন্তু এই ভালভ যখন সঠিকভাবে বন্ধ হতে ব্যর্থ হয়, তখন এক নীরব অথচ মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়, যা মাইট্রাল রিগারজিটেশন নামে পরিচিত। এই অবস্থায় হৃদযন্ত্র সংকুচিত হওয়ার সময় কিছু রক্ত উল্টো পথে অলিন্দে ফিরে যায়। শুরুতে এর প্রভাব তেমন বোঝা না গেলেও, সময়ের সাথে সাথে এই বিপরীত প্রবাহ হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, হার্ট ফেইলিউর, ফুসফুসে পানি জমা এবং অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

মাইট্রাল রিগারজিটেশন রোগীর কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ায়। দীর্ঘকাল ধরে এই রোগের প্রধান চিকিৎসা ছিল ওপেন হার্ট সার্জারি। তবে, বয়স্ক রোগী, কিডনি বা ফুসফুসের জটিলতায় ভোগা ব্যক্তি এবং গুরুতর হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের জন্য এই সার্জারি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফলে অনেক রোগীই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতেন।

এই প্রেক্ষাপটে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে ‘মাইট্রাল ভালভ ক্লিপিং’ বা Transcatheter Edge-to-Edge Repair (TEER) পদ্ধতির মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে, অ্যাবট ল্যাবরেটরিজের তৈরি MitraClip ডিভাইস বিশ্বব্যাপী বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর প্রধান সুবিধা হলো, এতে বুক কাটার প্রয়োজন হয় না, হৃদযন্ত্র বন্ধ রাখারও দরকার হয় না। এটি একটি মিনিমালি ইনভেসিভ বা কম আঘাতজনিত প্রক্রিয়া। ঊরুর শিরা দিয়ে একটি সরু ক্যাথেটার হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত নেওয়া হয় এবং একটি বিশেষ ক্লিপের সাহায্যে মাইট্রাল ভালভের দুটি পাতাকে কাছাকাছি এনে যুক্ত করা হয়। এর ফলে ভালভের ফাঁক কমে যায় এবং রক্তের উল্টো প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা হয়, যা রোগীদের দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ: ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আইনের রক্ষাকবচ

মাইট্রাল রিগারজিটেশন চিকিৎসায় যুগান্তকারী অগ্রগতি: কম ঝুঁকিপূর্ণ ‘ক্লিপিং’ পদ্ধতি

আপডেট সময় : ০৯:১২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

হৃদযন্ত্রের চারটি প্রধান ভালভের মধ্যে মাইট্রাল ভালভ বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের মধ্যে রক্তপ্রবাহের সঠিক দিক নিশ্চিত করে। কিন্তু এই ভালভ যখন সঠিকভাবে বন্ধ হতে ব্যর্থ হয়, তখন এক নীরব অথচ মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়, যা মাইট্রাল রিগারজিটেশন নামে পরিচিত। এই অবস্থায় হৃদযন্ত্র সংকুচিত হওয়ার সময় কিছু রক্ত উল্টো পথে অলিন্দে ফিরে যায়। শুরুতে এর প্রভাব তেমন বোঝা না গেলেও, সময়ের সাথে সাথে এই বিপরীত প্রবাহ হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, হার্ট ফেইলিউর, ফুসফুসে পানি জমা এবং অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

মাইট্রাল রিগারজিটেশন রোগীর কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ায়। দীর্ঘকাল ধরে এই রোগের প্রধান চিকিৎসা ছিল ওপেন হার্ট সার্জারি। তবে, বয়স্ক রোগী, কিডনি বা ফুসফুসের জটিলতায় ভোগা ব্যক্তি এবং গুরুতর হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের জন্য এই সার্জারি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফলে অনেক রোগীই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতেন।

এই প্রেক্ষাপটে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে ‘মাইট্রাল ভালভ ক্লিপিং’ বা Transcatheter Edge-to-Edge Repair (TEER) পদ্ধতির মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে, অ্যাবট ল্যাবরেটরিজের তৈরি MitraClip ডিভাইস বিশ্বব্যাপী বহুলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর প্রধান সুবিধা হলো, এতে বুক কাটার প্রয়োজন হয় না, হৃদযন্ত্র বন্ধ রাখারও দরকার হয় না। এটি একটি মিনিমালি ইনভেসিভ বা কম আঘাতজনিত প্রক্রিয়া। ঊরুর শিরা দিয়ে একটি সরু ক্যাথেটার হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত নেওয়া হয় এবং একটি বিশেষ ক্লিপের সাহায্যে মাইট্রাল ভালভের দুটি পাতাকে কাছাকাছি এনে যুক্ত করা হয়। এর ফলে ভালভের ফাঁক কমে যায় এবং রক্তের উল্টো প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা হয়, যা রোগীদের দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করে।