কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের ৬০০-এর বেশি বর্তমান ও সাবেক কর্মী গত বছরের অক্টোবরে এক অভূতপূর্ব আর্থিক সাফল্যের সাক্ষী হয়েছেন। ওই এক দিনেই তারা সম্মিলিতভাবে ৬৬০ কোটি ডলারের শেয়ার বিক্রি করে গড়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে আয় করেছেন। প্রযুক্তি শিল্পের ইতিহাসে সাধারণ কর্মীদের একসঙ্গে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ আয়ের ঘটনা নজিরবিহীন।
প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রায় ৭৫ জন কর্মী সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা, অর্থাৎ ৩ কোটি ডলার করে আয় করেছেন। যারা সাত বছর আগে ওপেনএআইতে যোগ দিয়েছিলেন, তাদের শেয়ারের দাম বেড়েছে ১০০ গুণেরও বেশি, যেখানে একই সময়ে নাসডাক কম্পোজিট সূচক বেড়েছে মাত্র তিন গুণ। এটি আইপিও বা শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের কোম্পানিগুলো যে বিপুল সম্পদ তৈরি করছে, তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ।
বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন আইপিওতে যাওয়ার চেয়ে টেন্ডার অফারের মাধ্যমে কর্মীদের পুরস্কৃত করতে বেশি আগ্রহী। বিনিয়োগকারীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ওপেনএআই তাদের অভ্যন্তরীণ শেয়ার বিক্রির সীমা ১ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি ডলার করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের কর্মীরা শেয়ার পাওয়ার পর বিক্রির জন্য দুই বছর অপেক্ষা করেন। চ্যাটজিপিটি চালুর পর গত অক্টোবরেই অনেক কর্মী প্রথমবার শেয়ার বিক্রির সুযোগ পান।
তবে এই বিপুল অর্থ হাতে পেয়েও সবাই তা নিজের পকেটে রাখেননি। অনেকেই তাদের শেয়ারের একটি অংশ ডোনার-অ্যাডভাইজড ফান্ড-এ দান করেছেন। এই দাতব্য বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে যেমন পরোপকার করা যায়, তেমনি একই অর্থবছরে কর ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়।
ওপেনএআইতে নির্দিষ্ট কিছু কারিগরি পদে বেতন ৫ লাখ ডলারেরও বেশি। অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ওপেনএআইয়ের শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক অনেক বেশি। এমনকি ২০২৫ সালে অনেক কর্মীকে কয়েক মিলিয়ন ডলারের এককালীন বোনাসও দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের হাতে থাকা ইক্যুইটির পরিমাণও মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যানের হাতে থাকা শেয়ারের আনুমানিক মূল্য ৩ হাজার কোটি ডলার। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানটি একটি অলাভজনক কাঠামোয় পরিচালিত হওয়ায় এর প্রধান নির্বাহীর নিজের কোনো ইক্যুইটি নেই।
রিপোর্টারের নাম 
























