ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউর জন্য ৫৬ শিশুর অপেক্ষা, আরও এক শিশুর মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। এ নিয়ে রামেক হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানিয়েছেন, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ১৪ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মোট ১১৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন আইসিইউতে ভর্তি আছে। এছাড়াও, আইসিইউ সেবার জন্য আরও ৫৬ জন শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে।

বড়দের জন্য হাসপাতালের আইসিইউতে ২৮টি শয্যা রয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আইসিইউর জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৪ জন। দুপুর ১টায় তিনি হামে আক্রান্ত রোগীদের পরিস্থিতি নিয়ে একটি ব্রিফিং করেন।

ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এছাড়া রাজশাহী, পাবনা ও নওগাঁ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী এসেছে। এমনকি বিভাগের বাইরে, যেমন খুলনার কুষ্টিয়া ও ঢাকার রাজবাড়ী জেলা থেকেও রোগী ভর্তি হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স দুই বছরের নিচে, যার মধ্যে অধিকাংশের বয়স ছয় মাস বা তারও কম। প্রায় ৬৫ শতাংশ শিশু টিকা দেওয়ার বয়সের আগেই আক্রান্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৪০ শয্যার একটি হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডে পৃথক আইসোলেশন কর্নার তৈরি করে সন্দেহভাজন রোগীদের সেখানে ভর্তি করা হচ্ছে। রোগীর চাপ বাড়লে পুরো একটি শিশু ওয়ার্ডকে হাম আইসোলেশন ইউনিটে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশনায় রাজশাহীর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালেও হামে আক্রান্ত শিশুদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, হাসপাতালে আইসিইউতে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আরও সাতটি শয্যা বাড়ানোর কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির বক্তব্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আইনজীবী শিশির মনিরের খোলা চিঠি

রাজশাহী মেডিকেলে আইসিইউর জন্য ৫৬ শিশুর অপেক্ষা, আরও এক শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৯:০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। এ নিয়ে রামেক হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানিয়েছেন, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ১৪ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মোট ১১৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন আইসিইউতে ভর্তি আছে। এছাড়াও, আইসিইউ সেবার জন্য আরও ৫৬ জন শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে।

বড়দের জন্য হাসপাতালের আইসিইউতে ২৮টি শয্যা রয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আইসিইউর জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৪ জন। দুপুর ১টায় তিনি হামে আক্রান্ত রোগীদের পরিস্থিতি নিয়ে একটি ব্রিফিং করেন।

ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এছাড়া রাজশাহী, পাবনা ও নওগাঁ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী এসেছে। এমনকি বিভাগের বাইরে, যেমন খুলনার কুষ্টিয়া ও ঢাকার রাজবাড়ী জেলা থেকেও রোগী ভর্তি হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগেরই বয়স দুই বছরের নিচে, যার মধ্যে অধিকাংশের বয়স ছয় মাস বা তারও কম। প্রায় ৬৫ শতাংশ শিশু টিকা দেওয়ার বয়সের আগেই আক্রান্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম নিরলসভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৪০ শয্যার একটি হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডে পৃথক আইসোলেশন কর্নার তৈরি করে সন্দেহভাজন রোগীদের সেখানে ভর্তি করা হচ্ছে। রোগীর চাপ বাড়লে পুরো একটি শিশু ওয়ার্ডকে হাম আইসোলেশন ইউনিটে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশনায় রাজশাহীর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালেও হামে আক্রান্ত শিশুদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, হাসপাতালে আইসিইউতে হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য আরও সাতটি শয্যা বাড়ানোর কাজ চলছে বলে তিনি জানান।